বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬

মানবতা আজ চাপাতির নিচেঃপ্রসঙ্গ নার্গিস হত্যা

এস এম ফারুকী।|
মানুষ গুলো দিন দিন যেন হায়না হয়ে
যাচ্ছে দয়া মায়া হীন জড়পর্দাতে
পরিনত হচ্ছে এই জাতী যেন আই সিও তে
চলে গেছে কি অমানবিক হত্যা কান্ড
আইয়ামে জাহিলিয়াত কে ও হার
মানাচ্ছে।
গত কাল মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে
পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফেরার সময়
কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার
নার্গিসকে অতর্কিতভাবে চাপতি দিয়ে
কুপিয়ে জখম করে বদরুল। জনসম্মুখে এ
ঘটনা ঘটালেও নার্গিসকে রক্ষায়
এগিয়ে আসেনি কেউ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বললেন, একটি মেয়েকে
মসজিদের পেছনে কোপাতে দেখে
এগিয়ে যাই। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অন্যদের
সহায়তায় আমরা মেয়েটিকে
হাসপাতালে নিয়ে আসি। প্রেমের
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বদরুল এ ঘটনা
ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।
পরে শিক্ষার্থীরা তাকে গুরুত্বর
আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে
নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে
গেলরাতে নার্গিসকে ঢাকায় পাঠানো
হয়। এখন স্কয়ার হাসপাতালের
লাইফসাপোর্টে আছেন নার্গিস। তার
অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে
জানিয়েছেন চিকিৎসক।
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে
অস্ত্রোপচার চলছে সিলেট সরকারি
মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা
আক্তার নার্গিসের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টায়
অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে, তা চলবে
বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
ডাক্তার রেজাউস সাত্তার আরটিভিকে
জানান, নার্গিসের মাথায় অনেকগুলো
কোপ থাকায় তার ব্রেন কাজ করছে না।
এ অবস্থায় তার সুস্থ হবার সম্ভাবনা ৫
থেকে ১০ ভাগ।
নার্গিসের চাচা জানান, তার বাবা
সৌদি আরবে রয়েছেন এবং বড় ভাই
থাকেন চীনে। পরিবারের পক্ষ থেকে
তিনি এবং কয়েকজন হাসপাতালে
রয়েছেন।
জানা গেছে, সিলেট সরকারি মহিলা
কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী
খাদিজা আক্তার নার্গিসদের বাড়িতেই
লজিং থাকতেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি
বিভাগের ছাত্র বদরুল আলম। তার সঙ্গে
নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু
ইদানীং তাদের বনিবনা না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ
হয়ে বদরুল এ কাণ্ড ঘটায় বলে ধারণা করা
হচ্ছে।
এ ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
যেখানে দেখা যায়, নার্গিসকে চাপাতি
দিয়ে কোপাচ্ছে বদরুল। মেয়েটা বাঁচাও
বাঁচাও বলে চিৎকার করছে। অদূরেই
অনেক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে থেকে সেই
ঘটনা বন্দী করছে মোবাইলে। কেউ কেউ
অবশ্য চিৎকারও করছে। কিন্তু পাষণ্ড
বদরুলের হাত থেকে নার্গিসকে বাঁচাতে
কেউই এগিয়ে যাননি।
যদিও ঘটনার পরপরই আটক করা হয় নরপশু
বদরুলকে। দেয়া হয় গণপিটুনি। পরে পুলিশ
ঘটনাস্থল থেকে বরুলকে উদ্ধার করে।
বদরুল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।
এ ব্যাপারে এমসি কলেজের
মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান
প্রফেসর সালেহ আহমদ বললেন, একটি
মেয়েকে কুপিয়ে দু’ টুকরো করে
ফেলেছে বলে কিছু ছাত্র এসে আমাদের
জানায়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা পুলিশকে
খবর দেই। পরে তারা এসে হামলাকারী
যুবককে জনতার কবল থেকে উদ্ধার করে।
আমরা ওই মেয়েটিকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য
হাসপাতালে পাঠাই।
এদিকে হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে
এমসি কলেজের ছাত্র-শিক্ষকসহ
সর্বস্তরের মানুষ। বিচার চেয়ে সকালে
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে
বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সিলেট
সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীরা।
তারা বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন এবং
বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে
স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষনা দেয়।  
      
আমাদের যুব সমাজের এখনি উচিৎ জেগে
উঠার, আমরা সকল অপরাধী দের কে
আইনের আওয়তায় আন্তে চেষ্টা করি সে
যে দলের-ই হোকনা কেন। অপরাধী দের
কোন ধর্ম নেই কোন রাজনীতি নেই কিছু
মানুষ নামের অমানুষের জন্য একটা ধর্ম
একটি সুন্দর রাজনীতির দুর্নাম হতে
পারেনা, হাতের নক বড় হলে নক কেটে
পেলতে হয় হাত কিংবা আঙ্গুল না তাই
আসুন ধর্ম কিংবা রাজনীতির দোহাই
দিয়ে অপরাধীদের যেন ছেড়ে না দেই।
লেখকঃসাংবাদিক ও মানবাধিকার
কর্মী।

অস্ত্র নয়, শান্তির বার্তায় স্বস্তির আবাহন

যুদ্ধং দেহি হুঙ্কার ছেড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
করার পথে এগোনোই এই মুহূর্তের অগ্রাধিকার হওয়া
উচিত, বিশিষ্ট জনেরা তা বলতে শুরু করেছিলেন।
ভারত-পাকিস্তান দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও
সেই সার সত্য উপলব্ধি করায় বিশ্ব জুড়ে কিছুটা হলেও
স্বস্তি নেমে এল।
সংশয় নেই, নরেন্দ্র মোদী ও নওয়াজ শরিফরা
উত্তেজনা প্রশমনের পথে এগিয়ে পরিণত বুদ্ধিরই
পরিচয় দিলেন। কোঝিকোড়ে নরেন্দ্র মোদী
দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বলেছিলেন, নওয়াজ
বুধবার তার জবাব দিলেন। বললেন, ট্যাঙ্ক চালিয়ে
দারিদ্র দূর করা যায় না। বাগ্যুদ্ধ প্রত্যাশিত, চলতেই
পারে। কিন্তু ট্যাঙ্কের প্রতিযোগিতায় শুভ নেই, শীর্ষ
নেতাদের এই বোধ এই উপমহাদেশের অসংখ্য মানুষকে
নিশ্চিন্ত নিদ্রার রাত উপহার দেবে, তাতে কোনও
সন্দেহ নেই।
আশার কথা, আমরা দ্রুত ফেরার চেষ্টা করছি
স্বাভাবিকের পথে। অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে দূরে।
প্রিয় পাঠক, দীর্ঘ সময় ধরে আনন্দবাজার পত্রিকার
সংবাদে আপনি যে ভরসা রেখেছেন, সেই জন্য আমরা
কৃতজ্ঞ। এই ওয়েবসাইট-এর হোমপেজের খবরগুলি যদিও
নির্বিঘ্নেই পড়তে পারবেন কিন্তু বিস্তারিত খবর
পড়তে হলে নীচের ধাপগুলি অনুসরণ করে আপনার
ব্রাউজার-এর অ্যাড ব্লকারটি আনইন্সটল করে নিন।

দিনাজপুরে ৯০০ বছরের পুরনো বিষ্ণু মন্দিরের সন্ধান

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  দিনাজপুরে ৯০০ বছরের পুরনো
বিষ্ণু মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। কাহারোল
উপজেলায় ডাবোর ইউনিয়নের মাধবগাঁও এলাকায় এই
মন্দিরটি একাদশ থেকে দ্বাদশ শতকের নবরথ বিশিষ্ট,
যা বাংলাদেশে আবিষ্কৃৃত মন্দিরের মধ্যে এই প্রথম।
এখানে দুষ্প্রাপ্য মোহিনীর মূর্তিও পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভগবান বিষ্ণুর একমাত্র নারী
অবতার। আর এই মূর্তিটি পূর্ব ভারতে পাওয়া প্রথম
মূর্তি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের
মতে, ভাগবত ও পুরানে ভগবান বিষ্ণুর ২২টি অবতারের
কথা বলা হয়েছে, মোহিনী তাদের মধ্যে অন্যতম এবং
একমাত্র নারীরুপ। ভারত উপমহাদেশের পূর্বাংশে এটি
প্রথম প্রস্তর নির্মিত মোহিনীর প্রতিমা২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী
কমিশনের অর্থায়নে দিনাজপুরে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ
চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপ দল। এই জরিপের
অংশ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে কাহারোল
উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের মাধবগাঁও এলাকায়
খননের কার্যক্রম শুরু করে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি দল।
মাত্র দুই সপ্তাহের খননেই এখানে পুরাতন
স্থাপত্যশৈলীর মন্দিরটি রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়
দলটি। এরপর বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে সংস্কৃতি
মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী
কমিশনের অর্থায়নে টানা ৩ মাসের অধিক সময়ে ধরে
খনন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে যে স্থাপনাটি
উন্মোচিত করেছেন তা বিষ্ণুমন্দির এবং সেটি একাদশ
থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যকার পূর্ব ভারতীয় হিন্দু
মন্দিরের গঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্থাপনাটির আদিমধ্যযুগ পূর্বভারতীয় মন্দির
স্থাপত্যের সাথে এই মন্দিরের সামঞ্জস্য রয়েছে।
বিশেষ করে উড়িষ্যার কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলী যেটি
একাদশ এবং দ্বাদশ শতকে বিকশিত হয়েছিল সেই
স্থাপত্যশৈলীর সাথে এর সামঞ্জস্য রয়েছে। এটি দু’টি
অংশে বিভক্ত, একটি গর্ভগৃহ যেখানে পূজা বা
উপাসনা করা হতো, এটি বিশেষ কিছু অভিক্ষেপ দিয়ে
চিহ্নিত। এই অভিক্ষেপগুলোকে স্থাপনা শিল্পের বা
শিল্পশাস্ত্রর ভাষা অনুযায়ী রথ বলা হয়। এখানে মোট
১১টি রথ রয়েছে, যার মধ্যে দু’টি উপরথ। পাশাপাশি
কিছু আলামতের ভিত্তিতে এটি নবরথ বিশিষ্ট একটি
মন্দির বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। খননকালে এখানে
প্রস্তর প্রতিমার ভগ্নাংশ হিসেবে হিন্দু দেবতা
বিষ্ণুর সমপদাস্থানক ভঙ্গিতে দন্ডায়মান প্রতিমার
হাতে থাকা শঙ্খ, চক্র, গদা, বিষ্ণুপ্রতিমার বনমালা
শোভিত পায়ের ভগ্নাংশ এবং একটি দেবি প্রতিমার
ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে।
এই খনন কার্যক্রমে বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে আসা
অভিজ্ঞ ১৩ জন শ্রমিকের সাথে আরও ২৬ জন স্থানীয়
শ্রমিক কাজ করছেন। খনন দলে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১০ জন
শিক্ষার্থী। তারা প্রাচীন এই খননকাজে অংশগ্রহন
করে স্থাপত্যের নকশা আকছেন।
ওই এলাকার অমৃত রায় জানান, এতদিন তারা এটিকে
ঢিবি বলেই জানতো। কিন্তু এর ভিতরে যে এত সুন্দর
একটি মন্দির রয়েছে তা তারা কোনভাবেই অনুমান
করতে পারেনি। তিনি জানান, অনেকেই এখানে ছাগল-
গরু বাঁধতো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
সীমা হক জানান, আবিষ্কৃত মন্দিরটির প্রবেশদ্বার পূর্ব
দিকে। প্রাচীন এই মন্দিরের নকশা ও স্থাপত্যশৈলী
দেখে সহজেই অনুমান করা যায় এক সময়ে এই অঞ্চল
উন্নত ও সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তণে এই অঞ্চল
অবহেলিত হয়ে পড়ে।
খনন দলের প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন জানান, স্থাপনাটির
স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য আদিমধ্যযুগ বা খ্রীষ্টিয় ষষ্ট
শতক থেকে ত্রোয়োদশ শতকের পূর্বভারতীয়
স্থাপত্যশৈলীর সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে। কিছু
আলামতের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এটি
একাদশ বা দ্বাদশ শতকের নবরথ বিশিষ্ট একটি বিষ্ণু
মন্দির। মন্দিরটি দু’টি অংশে বিভক্ত। পশ্চিম দিকে
১২/১২ মিটার নিরেট প্লাটফর্মের ছোট কক্ষ রয়েছে।
যেখানে প্রতিমার উপাসনা হতো। মন্দিরের বহির্গতের
অভিক্ষেপের সংখ্যা ৯টি। তাই এটিকে নবরথ মন্দির
বলা হচ্ছে। তিনি জানান, এটি বাংলাদেশে আবিস্কৃত
প্রথম নবরথ মন্দির। এর আগে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে
একটি পঞ্চরথ মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছিল।
অধ্যাপক ড. স্বাধীন জানান, মন্দিরটির স্থাপনারীতি
ও গঠনশৈলী নিয়ে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাবেক অধ্যাপক ও ভারতীয় স্থাপত্যের বিশেষজ্ঞ
দীপক সঞ্জন দাসের সাথে আলাপ হলে তিনি
জানিয়েছেন- মন্দিরটির উপরিকাঠামো পশ্চিম
বাংলার বাকুড়া জেলার সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের সাথে
সামঞ্জস্য রয়েছে। পাশাপাশি খনন কাজের শেষ
দিকে ঢিবির পূর্বাংশ থেকে একটি দুস্প্রাপ্য
প্রতিমার ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। প্রতিমাটি সম্পর্কে
দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত প্রতিমালক্ষনবিদ ও প্রাচীন
শিল্পকলার ইতিহাসবিদ ক্লদিন বুদজে পিক্রো সঙ্গে
যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিমাটিকে বিষ্ণুর নারী
অবতার মোহিনী হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
ক্লদিন জানিয়েছেন, প্রতিমাটি ভারত উপমহাদেশের
পূবাংশে এই প্রথম প্রস্থরনির্মিত বিষ্ণুর নারী অবতার
মোহিনীর মুর্তি। নবরথ বিষ্ণু মন্দির ও দুষ্প্রাপ্য
মোহিনীর প্রতিমা পাওয়ায় এই অঞ্চলের ইতিহাস,
ইতিহাসের স্বাক্ষ্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন ভাবনার
মোড় নিয়েছে।
অধ্যাপক সেন জানান, স্থানীয়দের দাবি রয়েছে এটি
যেন উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, কিন্তু সেটি করতে হলে
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমোদন ও সংরক্ষণ করা
লাগবে। সংরক্ষন না করেই এভাবে রেখে দিলে
কিছুদিনের মধ্যে এটি নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি
এলাকার লোকজনকে বোঝানো হয়েছে। প্রায় ৬শ’
গ্রামবাসীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে স্থানটি সংরক্ষণ
ও উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য।

দিনাজপুরে ৯০০ বছরের পুরনো বিষ্ণু মন্দিরের সন্ধান

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  দিনাজপুরে ৯০০ বছরের পুরনো
বিষ্ণু মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। কাহারোল
উপজেলায় ডাবোর ইউনিয়নের মাধবগাঁও এলাকায় এই
মন্দিরটি একাদশ থেকে দ্বাদশ শতকের নবরথ বিশিষ্ট,
যা বাংলাদেশে আবিষ্কৃৃত মন্দিরের মধ্যে এই প্রথম।
এখানে দুষ্প্রাপ্য মোহিনীর মূর্তিও পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভগবান বিষ্ণুর একমাত্র নারী
অবতার। আর এই মূর্তিটি পূর্ব ভারতে পাওয়া প্রথম
মূর্তি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের
মতে, ভাগবত ও পুরানে ভগবান বিষ্ণুর ২২টি অবতারের
কথা বলা হয়েছে, মোহিনী তাদের মধ্যে অন্যতম এবং
একমাত্র নারীরুপ। ভারত উপমহাদেশের পূর্বাংশে এটি
প্রথম প্রস্তর নির্মিত মোহিনীর প্রতিমা২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী
কমিশনের অর্থায়নে দিনাজপুরে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ
চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপ দল। এই জরিপের
অংশ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে কাহারোল
উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের মাধবগাঁও এলাকায়
খননের কার্যক্রম শুরু করে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি দল।
মাত্র দুই সপ্তাহের খননেই এখানে পুরাতন
স্থাপত্যশৈলীর মন্দিরটি রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়
দলটি। এরপর বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে সংস্কৃতি
মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী
কমিশনের অর্থায়নে টানা ৩ মাসের অধিক সময়ে ধরে
খনন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে যে স্থাপনাটি
উন্মোচিত করেছেন তা বিষ্ণুমন্দির এবং সেটি একাদশ
থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যকার পূর্ব ভারতীয় হিন্দু
মন্দিরের গঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্থাপনাটির আদিমধ্যযুগ পূর্বভারতীয় মন্দির
স্থাপত্যের সাথে এই মন্দিরের সামঞ্জস্য রয়েছে।
বিশেষ করে উড়িষ্যার কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলী যেটি
একাদশ এবং দ্বাদশ শতকে বিকশিত হয়েছিল সেই
স্থাপত্যশৈলীর সাথে এর সামঞ্জস্য রয়েছে। এটি দু’টি
অংশে বিভক্ত, একটি গর্ভগৃহ যেখানে পূজা বা
উপাসনা করা হতো, এটি বিশেষ কিছু অভিক্ষেপ দিয়ে
চিহ্নিত। এই অভিক্ষেপগুলোকে স্থাপনা শিল্পের বা
শিল্পশাস্ত্রর ভাষা অনুযায়ী রথ বলা হয়। এখানে মোট
১১টি রথ রয়েছে, যার মধ্যে দু’টি উপরথ। পাশাপাশি
কিছু আলামতের ভিত্তিতে এটি নবরথ বিশিষ্ট একটি
মন্দির বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। খননকালে এখানে
প্রস্তর প্রতিমার ভগ্নাংশ হিসেবে হিন্দু দেবতা
বিষ্ণুর সমপদাস্থানক ভঙ্গিতে দন্ডায়মান প্রতিমার
হাতে থাকা শঙ্খ, চক্র, গদা, বিষ্ণুপ্রতিমার বনমালা
শোভিত পায়ের ভগ্নাংশ এবং একটি দেবি প্রতিমার
ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে।
এই খনন কার্যক্রমে বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে আসা
অভিজ্ঞ ১৩ জন শ্রমিকের সাথে আরও ২৬ জন স্থানীয়
শ্রমিক কাজ করছেন। খনন দলে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১০ জন
শিক্ষার্থী। তারা প্রাচীন এই খননকাজে অংশগ্রহন
করে স্থাপত্যের নকশা আকছেন।
ওই এলাকার অমৃত রায় জানান, এতদিন তারা এটিকে
ঢিবি বলেই জানতো। কিন্তু এর ভিতরে যে এত সুন্দর
একটি মন্দির রয়েছে তা তারা কোনভাবেই অনুমান
করতে পারেনি। তিনি জানান, অনেকেই এখানে ছাগল-
গরু বাঁধতো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
সীমা হক জানান, আবিষ্কৃত মন্দিরটির প্রবেশদ্বার পূর্ব
দিকে। প্রাচীন এই মন্দিরের নকশা ও স্থাপত্যশৈলী
দেখে সহজেই অনুমান করা যায় এক সময়ে এই অঞ্চল
উন্নত ও সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তণে এই অঞ্চল
অবহেলিত হয়ে পড়ে।
খনন দলের প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন জানান, স্থাপনাটির
স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য আদিমধ্যযুগ বা খ্রীষ্টিয় ষষ্ট
শতক থেকে ত্রোয়োদশ শতকের পূর্বভারতীয়
স্থাপত্যশৈলীর সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে। কিছু
আলামতের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এটি
একাদশ বা দ্বাদশ শতকের নবরথ বিশিষ্ট একটি বিষ্ণু
মন্দির। মন্দিরটি দু’টি অংশে বিভক্ত। পশ্চিম দিকে
১২/১২ মিটার নিরেট প্লাটফর্মের ছোট কক্ষ রয়েছে।
যেখানে প্রতিমার উপাসনা হতো। মন্দিরের বহির্গতের
অভিক্ষেপের সংখ্যা ৯টি। তাই এটিকে নবরথ মন্দির
বলা হচ্ছে। তিনি জানান, এটি বাংলাদেশে আবিস্কৃত
প্রথম নবরথ মন্দির। এর আগে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে
একটি পঞ্চরথ মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছিল।
অধ্যাপক ড. স্বাধীন জানান, মন্দিরটির স্থাপনারীতি
ও গঠনশৈলী নিয়ে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাবেক অধ্যাপক ও ভারতীয় স্থাপত্যের বিশেষজ্ঞ
দীপক সঞ্জন দাসের সাথে আলাপ হলে তিনি
জানিয়েছেন- মন্দিরটির উপরিকাঠামো পশ্চিম
বাংলার বাকুড়া জেলার সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের সাথে
সামঞ্জস্য রয়েছে। পাশাপাশি খনন কাজের শেষ
দিকে ঢিবির পূর্বাংশ থেকে একটি দুস্প্রাপ্য
প্রতিমার ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। প্রতিমাটি সম্পর্কে
দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত প্রতিমালক্ষনবিদ ও প্রাচীন
শিল্পকলার ইতিহাসবিদ ক্লদিন বুদজে পিক্রো সঙ্গে
যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিমাটিকে বিষ্ণুর নারী
অবতার মোহিনী হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
ক্লদিন জানিয়েছেন, প্রতিমাটি ভারত উপমহাদেশের
পূবাংশে এই প্রথম প্রস্থরনির্মিত বিষ্ণুর নারী অবতার
মোহিনীর মুর্তি। নবরথ বিষ্ণু মন্দির ও দুষ্প্রাপ্য
মোহিনীর প্রতিমা পাওয়ায় এই অঞ্চলের ইতিহাস,
ইতিহাসের স্বাক্ষ্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন ভাবনার
মোড় নিয়েছে।
অধ্যাপক সেন জানান, স্থানীয়দের দাবি রয়েছে এটি
যেন উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, কিন্তু সেটি করতে হলে
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমোদন ও সংরক্ষণ করা
লাগবে। সংরক্ষন না করেই এভাবে রেখে দিলে
কিছুদিনের মধ্যে এটি নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি
এলাকার লোকজনকে বোঝানো হয়েছে। প্রায় ৬শ’
গ্রামবাসীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে স্থানটি সংরক্ষণ
ও উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য।

মণ্ডপে মানুষের ঢল, পথে নেমে পড়ল পুলিশও

চতুর্থীর সন্ধ্যা থেকেই মহানগরের রাস্তায় রাস্তায়
মানুষের ঢল। ব্যতিক্রম নয় বিধাননগর থেকে নিউ
টাউনও। তাই কলকাতার ধাঁচে বুধবার থেকেই যান
নিয়ন্ত্রণে পথে নেমে পডল বিধাননগর কমিশনারেটের
পুলিশ। পাশাপাশি নজরদারিও বাডানো হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ আগেও চতুর্থী থেকে নিয়ন্ত্রণের
কাজে পথে নেমেছে। কিন্তু বিধাননগর, দক্ষিণ দমদম
এলাকায় তেমনটা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছরে
পুজোর মুখে ভিআইপি রোড, সল্টলেক, দক্ষিণ দমদম পুর
এলাকা, রাজারহাট এক্সপ্রেসওয়ে-সহ বিভিন্ন
রাস্তায় যানজট ক্রমশ বেেডছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা
মাথায় রেখে এ দিন থেকেই ভিড ও যানবাহন
নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে দিল বিধাননগর পুলিশ।
তবে এ বার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি
নজরদারিরও রকমারি পরিকল্পনা করেছে পুলিশ।
এ দিন কমিশনারেটের সদর দফতরে পুজো গাইড প্রকাশ
করেছে বিধাননগর পুলিশ। পরে বিধাননগরের ডিসি
(সদর) নিশাদ পারভেজ জানান, ১৫০০ জন পুলিশকর্মীর
পাশাপাশি সিভিক পুলিশকেও পথে নামানো হচ্ছে।
পাশাপাশি, নজরদারিতে এ বারের অস্ত্র সদ্য হিডকো
থেকে পাওয়া ড্রোন। প্রয়োজনে সেই ড্রোন ব্যবহার
করে নজরদারি চালানো হবে। এ ছাডাও বম্ব স্কোয়াড
ও ডগ স্কোয়াডকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইভটিজিং
রুখতে সাদা পোশাকে পুলিশবাহিনীও ছডিয়ে দেওয়া
হয়েছে বিভিন্ন শপিং মল এলাকা ও যে সব পুজো
মণ্ডপে জনসমাগম বেশি সে সব জায়গায়।
বুধবার সন্ধ্যা থেকেই পথে নেমেছে পুলিশ। বিশেষত,
ভিআইপি রোেডর ধারে বেশ কয়েকটি বড পুজোকে
ঘিরে মানুষের ঢল নেমেছে। ফলে গাডির গতি কমেছে।
মঙ্গলবার রাতেও ভিআইপি রোেড যানজট ছডিয়ে
পেডছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে রাত গডিয়ে
যায়।
তবে শুধু ভিআইপি রোেডর ধারেই নয়, বেশ কয়েকটি
পুজোকে ঘিরে ট্রাফিক পরিকল্পনা সাজিয়েছে
পুলিশ। কোথায় কোথায় পার্কিং লট থাকছে আর
কোথায় থাকছে না, সে সব পথ নির্দেশিকা থাকবে।
কয়েকটি রাস্তা বন্ধ এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে 'ওয়ান
ওয়ে' করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে উল্টোডাঙা
থেকে ভিআইপি রোড, সল্টলেকের একাধিক
প্রবেশপথে যানজট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বিশেষ
গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। এক
পুলিশকর্তার কথায়, উল্টোডাঙা স্টেশন, ই এম বাইপাস
থেকে সল্টলেক, নিউটাউন এবং দক্ষিণ দমদম, দমদম
এলাকায় ভিডকে নিয়ন্ত্রণ করার দিকে নজর দেওয়া
হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়
করে পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে।
তবে শুধুমাত্র যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কিংবা জনসমাগম
বেশি, এমন জায়গায় নজরদারি বাডানোই নয়, তার
বাইরেও নজরদারি নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।
বিশেষত, রাজারহাট এক্সপ্রেসওয়ে, নিউ টাউন,
সল্টলেকের বিভিন্ন ফাঁকা রাস্তা, ব্লকের ভিতরের
রাস্তাগুলিকে এ বার নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা
হচ্ছে। অনেক সময়ে ভিেডর সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা ঢুকে
পডছে ব্লকগুলিতে। পাশাপাশি ফাঁকা রাস্তায়
বেপরোয়া যান চলাচলকে নিয়ন্ত্রণে আনতেও
পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করা হচ্ছে।
তবে এ সবের বাইরেও পানশালা, রেস্তোরাঁগুলির
দিকেও বাডতি নজরদারি চালানো হবে বলে পুলিশ
সূত্রের দাবি।
এ দিন পুজো গাইড প্রকাশ অনুষ্ঠানে নগরোন্নয়ন
দফতরের সচিব দেবাশিস সেন, পুলিশ কমিশনার
জ্ঞানবন্ত সিংহ-সহ শীর্ষ পুলিশকর্তারা হাজির
ছিলেন।

সন্দেহজনক পাক নৌকার ৯ যাত্রীকে গ্রেফতার করল পুলিশ

গুজরাত উপকূলের কাছ থেকে আটক হওয়া সন্দেহভাজন
৯ পাকিস্তানিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। জলসীমা
অঞ্চল আইন লঙ্ঘন করায় নবি বন্দর থানায় মঙ্গলবার
তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে নৌ
বাহিনীর এক কর্তা জানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে
সন্দেহজনক কোনও জিনিস পাওয়া না গেলেও
বিষয়টিকে খুব একটা হাল্কা ভাবে নিতে চাইছে না
উপকবলরক্ষী বাহিনী। তাই মামলা রুজু করে পুলিশের
সঙ্গে যৌথ ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে তারা।
রবিবার সকাল সওয়া ১০টা নাগাদ পাক জলযানটিকে
আরব সাগর থেকে আটক করা হয়েছিল। উপকূলের
কাছাকাছি পাক জলযানের গতিবিধি দেখেই
উপকবলরক্ষী বাহিনী জাহাজ আইসিজিএস সমুদ্র
পাবককে সেখানে পাঠয়। পাক নৌকার মধ্যে ৯ জন
যাত্রী ছিল।

আসল পরীক্ষা কিন্তু এখনও বাকি

পা ক-মদতের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের প্রত্যয়ী
প্রত্যাঘাতকে 'মোদী ডকট্রিন' বা 'মোদী নীতি', কী
বলব জানি না। যা-ই বলি না কেন, ভারতীয় সেনার
সার্জিক্যাল স্ট্রাইককেই কি তবে 'মোদী নীতি'-র
মহাপরীক্ষা ধরে নেব? বোধহয় না। পাকিস্তানকে এক
গোল দিয়েছি ভেবে আমরা যতই উল্লসিত হই না কেন,
এক মুহূর্তের জন্যও ভোলা যাচ্ছে না যে খেলাটা শেষ
অবধি গডাতে এখনও ঢের বাকি। তাও অবশ্য
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে দেশ জুেড
জাতীয়তাবাদের ঢক্কানিনাদ শুরু হয়ে গিয়েছে। অবাক
হওয়ার কিছু নেই। হাজার হোক, ভারতের মাটিতে
জঙ্গি হানার পর প্রত্যাঘাত তো কখনওই ঘটেনি! প্রতি
বারই পাকিস্তানের হাতে 'অভ্রান্ত' প্রমাণসাবুদ তুলে
দেওয়া হয়েছে, ওই পর্যন্তই!
পরমাণু-অস্ত্রে বলীয়ান প্রতিবেশী দেশকে চটানোর
ঝুঁকি ভারতের নেতারা কোনও কালে নিতে চাননি।
সেই দিক দিয়ে, গত সপ্তাহের 'স্ট্রাইক' সত্যিই একটা
নতুন ঘটনা, এক ধাক্কায় খেলাটাকে পাল্টে দিতে
পারে এমন একটা শট। প্রেক্ষিত পরিবর্তন।
পরিবর্তনের সঙ্গেই পা মিলিয়ে আসে আরও একটা
জিনিস। অনিশ্চয়তা। ঝুঁকি। পরিবর্তনের ধারাটি কী
রকম হবে, বোঝা যায় না। প্রধানত পাকিস্তানের শাসক
গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়ার উপর সেটা নির্ভর করবে। পাক
রাজনীতির আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার পিছনে এখন
সম্ভবত দুই রকম চাপ। একে তো পাক মনোভাবের মধ্যেই
একটা তৈমুর-লঙ-সুলভ জঙ্গিপনা আছে। তার ওপর একটা
স্ট্র্যাটেজির বিষয়ও আছে। তুলনায় ছোট সংঘাতকে
কেন্দ্র করে যুদ্ধু-যুদ্ধু ভাবটা ঝালিয়ে নেওয়াটা সে
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্য জরুরি হতে পারে।
এমনিতেও সামরিক তত্ত্ব বলে- যে পক্ষের লক্ষ্য
আত্মরক্ষা, পরস্পরকে অসুবিধার মধ্যে ফেলার লডাইয়ে
শেষে তার পরাজয়ই অবধারিত। আবার এও ঠিক, শক্তির
দিক দিয়ে ছোট যে, তাকেই শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থায়
হার স্বীকার করতে হয়। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীকে
দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক, প্রথম থেকেই তারা
পাকিস্তানকে মহম্মদ আলি জিন্নার কথানুযায়ী
'পোকায়-খাওয়া', অর্থাত্ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে
দেখে আসছে। মনে করে আসছে, পাকিস্তান স্বপ্নের
উপর ভর করে একটা নতুন দেশ পেতে হলে কাশ্মীর,
বালুচিস্তান, আফগানিস্তান, সব তাদের পাওয়া উচিত
ছিল। তাই স্বাধীনতার পর থেকে এই অসাধিত স্বপ্নের
সাধনাকাঙ্ক্ষায় তাদের দিনযাপন। ঠিক যে ভাবে
কয়েক শতাব্দী আগে এশিয়ার রুক্ষ শুষ্ক তৃণভূমিতে
তৈমুরলঙ দাপিয়ে বেডাতেন, পেশিবলের উপর ভর করে
তিনি ও তাঁর উত্তরসূরিরা এশিয়ার, প্রধানত মধ্য ও
দক্ষিণ এশিয়ার শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা
করতেন, সেই মানসিকতা আজও পাকিস্তানে দেখতে
পাওয়া যায়। দেশভাগের সময় ভারত থেকে এলিট
শ্রেণির মুসলিমরা প্রায় পুরোপুরি বেরিয়ে
গিয়েছিলেন, তথাকথিত 'হিন্দু ভারতে' থেকে
গিয়েছিলেন কেবল দরিদ্র ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদে
মস্তিষ্কধৌত মুসলমানরা। তার ফলে পাকিস্তানের এই
মানসিকতাটি প্রথমাবধি গভীর ভাবে প্রোথিত।
জন্মের মুহূর্ত থেকেই সংঘাত-সংঘর্ষ পাকিস্তান
দেশটির মূলগত স্পিরিট। কেন তারা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে
জঙ্গি সমর্থন করে বা সামরিক হুঙ্কার দিয়ে যায়,
বুঝতে অসুবিধে হয় না। এই নতুন পর্বে কি এই সব
পাল্টানোর সম্ভাবনা আছে? মনে হয় না।
তাই আরও সংঘাত, আরও রক্তক্ষয়ের জন্য ভারতের
তৈরি থাকা দরকার। দুর্ভাগ্যক্রমে, আমাদের সীমান্ত
অঞ্চলগুলির রক্ষণ নিয়ে ভাবনা নেই। মুশকিল আমাদের
কেন্দ্রভূমিতে- হট্টগোল ও বৈচিত্রে ভরপুর আমাদের
শহরগুলিতে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই,
অনেক দশকের রাজনৈতিক খেয়োখেয়িতে সে সব নষ্ট।
এক দিকে প্রশাসনিক অদক্ষতা, অন্য দিকে
জাতীয়তাবাদ-বিরোধিতার প্রচ্ছন্ন সংস্কৃতি, সব
মিলিয়ে একটা দুর্বলতার বলয়। শত্রুরা চাইলে অতি
সহজে নিজেদের প্রয়োজনে এই পরিসর ব্যবহার করতে
পারে। ২৬-১১র মুম্বই সন্ত্রাস কিংবা ২০০১ সালের
সংসদ আক্রমণ, এমনকী এই কয়েক মাস আগের পঠানকোট
জঙ্গি হানার মতো আর একটিও ঘটনা যদি ঘটে, সে
ক্ষেত্রে মোদী সরকারের উপর কী সাংঘাতিক চাপ
তৈরি হবে, ভাবলেও আতঙ্ক উপস্থিত হয়। সেই
মারাত্মক চাপের সামনে কী করবে সরকার?
কী করবে, সেটাই ঠিক করে দেবে বর্তমান মোদী নীতি
সফল না ব্যর্থ। সেখানেই তার আসল পরীক্ষা। পুরোপুরি
যুদ্ধ কেবল পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের কারণেই ভয়ানক
বিপজ্জনক নয়। যুদ্ধ সত্যি শুরু হলে দুই দেশের
অর্থনীতিরই বিষম ক্ষতি। ভারতের ক্ষেত্রে, প্রভূত
পরিমাণ অর্থনৈতিক সম্পদ বিনষ্ট হবে, উন্নয়নের গতি
কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে। এই মুহূর্তে ভারত বেশ একটা
নাটকীয় সম্ভাবনার দোরগোডায়। যুদ্ধ লাগলে সে
সম্ভাবনা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক ক্ষমতা
ও প্রতিশ্রুতির দিক দিয়ে চিনের অনেক পিছনে চলে
যাবে ভারত, দিল্লিকে সমস্ত আন্তর্জাতিক উচ্চাশা ও
স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দিতে হবে। পাকিস্তানের ক্ষতি
অবশ্যই অনেক বেশি। হয়তো একদম শেষই হয়ে যাবে
দেশটা।
তবে কি না, যুদ্ধ ছাডাও আরও নানা রকম প্রত্যাঘাত
হতে পারে। পাকিস্তানি অর্থনীতিকে আঘাত করার
লক্ষ্যে প্রচ্ছন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। পাক
রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা যেতে
পারে। মুশকিল হল, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে যত
প্রচার করা গিয়েছে, এগুলো নিয়ে হয়তো তা করা
যাবে না। তার অর্থ, এর থেকে রাজনৈতিক সুবিধা
আদায় করাও কঠিন হবে। এখানে মোদী নীতি মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের থেকে কিছু বুদ্ধি ধার নিতে পারে। তিন
দশক ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মার্কিনরা যে
গোপন কিন্তু নাছোড যুদ্ধ চালিয়ে এসেছে, তাতে
পরিস্থিতি কখনও আয়ত্তের বাইরে যায়নি, দুই দেশের
সামরিক বাহিনী পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে
নেয়নি। তবু সোভিয়েত ইউনিয়নকে শেষে হার মানতে
হয়েছে।
উপমহাদেশে ঘটনা যে দিকে গডাবে, মোদী নীতির
চরিত্রও তার সঙ্গে তাল রেখে পাল্টাবে। এখন কথা
হল, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যতা বা জনমতের
চাপটাই কি প্রধান বিবেচ্য? না কি পাকিস্তানি
জাতীয় শক্তির ক্রম-বিনাশই লক্ষ্য? সংবাদমাধ্যমের
হেডলাইন অনুযায়ী নীতি ঠিক হবে? নাকি
নেপথ্যমঞ্চের গোপন সামরিক কার্যক্রম অনুযায়ী ঠিক
হবে? প্রতিবেশী দেশ একটার পর একটা ক্ষত তৈরি করে
যাবে, আর দিল্লি সেগুলো মানতে মানতে চলবে? না
কি, দিল্লি সোজাসুজি যুদ্ধ ঘোষণাই বাঞ্ছনীয় মনে
করবে? সম্ভাবনা অনেক। তবে ঘটনা যে দিকেই গডাক
না কেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতির একটা বড সমস্যা আছে।
একটি বিশেষ স্ট্র্যাটেজি নিয়ে চললে ভবিষ্যতে
কোন দিকে কতখানি এগোনো যাবে, আগে থেকে
বোঝা যায় না। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরেও চলে
যেতে পারে। আর সেই দুর্বলতার অবকাশে ঘনিয়ে
আসতে পারে বড বিপদ। বিপদ মানে এ ক্ষেত্রে কিন্তু
বিরাট বিপদ, গোটা উপমহাদেশের বিপদ।
সামরিক ইতিহাসের বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন
প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশীয় যুদ্ধের (৪৩১-৪০৪
খ্রিস্টপূর্বাব্দ) কথা। গণতান্ত্রিক এথেন্স এই ভাবেই
স্পার্টার সামরিক রাষ্ট্রের কাছে হেরে গিয়েছিল।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অপ্রত্যাশিত ঘটনাপ্রবাহের
সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি তারা। নিজের
ক্ষমতা প্রায় অতিক্রম করে এথেন্স বহু দূরের দ্বীপ
সিসিলিতে সামরিক অভিযান চালায়। সেই অদূরদৃষ্টির
অভিঘাত আর সামলানো যায়নি। লিবারেল
এথেনীয়দের পরাজিত করে শুরু হয় কট্টর শাসনের
পালা। গ্রিক ইতিহাসের মোডই ঘুরে যায় তাতে। প্রমাণ
হয়ে যায়, প্রগতিশীল সভ্যতা বা রাষ্ট্রই সর্বদা শেষ
পর্যন্ত জয়লাভ করতে পারে না।
উল্টো উদাহরণও আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে এনেছিল পার্ল হারবারের উপর
জাপানের আক্রমণ। পশ্চিম উপকূলীয় মার্কিন
নৌবাহিনী প্রায় শেষ হয়ে যায় সেই আঘাতে। কিন্তু
আমেরিকা ঘুরে দাঁডায়। জাপানের উপর এক হাত নিয়ে
যুদ্ধ শেষ করে দেয়। এই বিরাট সাফল্যের পিছনে ছিল
মার্কিন জাতীয় আবেগের তীব্রতা। প্রায় অর্ধেক
পৃথিবী পার হয়ে দেশের জন্য প্রাণ দিতে গিয়েছিল
বিশালাকার সামরিক বাহিনী। এর মধ্যেও একটা
'স্ট্র্যাটেজিক ওভাররিচ' ঘটতে পারত, কিন্তু ঘটেনি।
প্রাচীন গ্রিস না পারলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
আমেরিকা নিজের স্ট্র্যাটেজি আর নিজের লক্ষ্যে
সাযুজ্য রাখতে পেরেছিল। অবশ্য দেশের ভেতরে অত
বড শিল্প-ক্ষেত্র, শক্তপোক্ত ধনতান্ত্রিক ভিত,
প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের বিরাট জোগান ছাডা এই
সাফল্য সম্ভব হত না।
সুতরাং ইসলামাবাদের তৈমুরবাহিনীকে শেষ অবধি
চূডান্ত শিক্ষাটা ভারত দিতে পারবে কি না, সেটা
নির্ভর করছে ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে আমরা
নিজেরা কী ভাবে এগোই, তার উপরই। কোন পথ ধরব
আমরা? প্রাচীন এথেন্স-বাসীর মতো?