বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬

মানবতা আজ চাপাতির নিচেঃপ্রসঙ্গ নার্গিস হত্যা

এস এম ফারুকী।|
মানুষ গুলো দিন দিন যেন হায়না হয়ে
যাচ্ছে দয়া মায়া হীন জড়পর্দাতে
পরিনত হচ্ছে এই জাতী যেন আই সিও তে
চলে গেছে কি অমানবিক হত্যা কান্ড
আইয়ামে জাহিলিয়াত কে ও হার
মানাচ্ছে।
গত কাল মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে
পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফেরার সময়
কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার
নার্গিসকে অতর্কিতভাবে চাপতি দিয়ে
কুপিয়ে জখম করে বদরুল। জনসম্মুখে এ
ঘটনা ঘটালেও নার্গিসকে রক্ষায়
এগিয়ে আসেনি কেউ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বললেন, একটি মেয়েকে
মসজিদের পেছনে কোপাতে দেখে
এগিয়ে যাই। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অন্যদের
সহায়তায় আমরা মেয়েটিকে
হাসপাতালে নিয়ে আসি। প্রেমের
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বদরুল এ ঘটনা
ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।
পরে শিক্ষার্থীরা তাকে গুরুত্বর
আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে
নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে
গেলরাতে নার্গিসকে ঢাকায় পাঠানো
হয়। এখন স্কয়ার হাসপাতালের
লাইফসাপোর্টে আছেন নার্গিস। তার
অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে
জানিয়েছেন চিকিৎসক।
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে
অস্ত্রোপচার চলছে সিলেট সরকারি
মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা
আক্তার নার্গিসের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টায়
অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে, তা চলবে
বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
ডাক্তার রেজাউস সাত্তার আরটিভিকে
জানান, নার্গিসের মাথায় অনেকগুলো
কোপ থাকায় তার ব্রেন কাজ করছে না।
এ অবস্থায় তার সুস্থ হবার সম্ভাবনা ৫
থেকে ১০ ভাগ।
নার্গিসের চাচা জানান, তার বাবা
সৌদি আরবে রয়েছেন এবং বড় ভাই
থাকেন চীনে। পরিবারের পক্ষ থেকে
তিনি এবং কয়েকজন হাসপাতালে
রয়েছেন।
জানা গেছে, সিলেট সরকারি মহিলা
কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী
খাদিজা আক্তার নার্গিসদের বাড়িতেই
লজিং থাকতেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি
বিভাগের ছাত্র বদরুল আলম। তার সঙ্গে
নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু
ইদানীং তাদের বনিবনা না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ
হয়ে বদরুল এ কাণ্ড ঘটায় বলে ধারণা করা
হচ্ছে।
এ ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
যেখানে দেখা যায়, নার্গিসকে চাপাতি
দিয়ে কোপাচ্ছে বদরুল। মেয়েটা বাঁচাও
বাঁচাও বলে চিৎকার করছে। অদূরেই
অনেক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে থেকে সেই
ঘটনা বন্দী করছে মোবাইলে। কেউ কেউ
অবশ্য চিৎকারও করছে। কিন্তু পাষণ্ড
বদরুলের হাত থেকে নার্গিসকে বাঁচাতে
কেউই এগিয়ে যাননি।
যদিও ঘটনার পরপরই আটক করা হয় নরপশু
বদরুলকে। দেয়া হয় গণপিটুনি। পরে পুলিশ
ঘটনাস্থল থেকে বরুলকে উদ্ধার করে।
বদরুল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।
এ ব্যাপারে এমসি কলেজের
মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান
প্রফেসর সালেহ আহমদ বললেন, একটি
মেয়েকে কুপিয়ে দু’ টুকরো করে
ফেলেছে বলে কিছু ছাত্র এসে আমাদের
জানায়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা পুলিশকে
খবর দেই। পরে তারা এসে হামলাকারী
যুবককে জনতার কবল থেকে উদ্ধার করে।
আমরা ওই মেয়েটিকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য
হাসপাতালে পাঠাই।
এদিকে হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে
এমসি কলেজের ছাত্র-শিক্ষকসহ
সর্বস্তরের মানুষ। বিচার চেয়ে সকালে
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে
বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সিলেট
সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীরা।
তারা বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন এবং
বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে
স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষনা দেয়।  
      
আমাদের যুব সমাজের এখনি উচিৎ জেগে
উঠার, আমরা সকল অপরাধী দের কে
আইনের আওয়তায় আন্তে চেষ্টা করি সে
যে দলের-ই হোকনা কেন। অপরাধী দের
কোন ধর্ম নেই কোন রাজনীতি নেই কিছু
মানুষ নামের অমানুষের জন্য একটা ধর্ম
একটি সুন্দর রাজনীতির দুর্নাম হতে
পারেনা, হাতের নক বড় হলে নক কেটে
পেলতে হয় হাত কিংবা আঙ্গুল না তাই
আসুন ধর্ম কিংবা রাজনীতির দোহাই
দিয়ে অপরাধীদের যেন ছেড়ে না দেই।
লেখকঃসাংবাদিক ও মানবাধিকার
কর্মী।

অস্ত্র নয়, শান্তির বার্তায় স্বস্তির আবাহন

যুদ্ধং দেহি হুঙ্কার ছেড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
করার পথে এগোনোই এই মুহূর্তের অগ্রাধিকার হওয়া
উচিত, বিশিষ্ট জনেরা তা বলতে শুরু করেছিলেন।
ভারত-পাকিস্তান দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও
সেই সার সত্য উপলব্ধি করায় বিশ্ব জুড়ে কিছুটা হলেও
স্বস্তি নেমে এল।
সংশয় নেই, নরেন্দ্র মোদী ও নওয়াজ শরিফরা
উত্তেজনা প্রশমনের পথে এগিয়ে পরিণত বুদ্ধিরই
পরিচয় দিলেন। কোঝিকোড়ে নরেন্দ্র মোদী
দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বলেছিলেন, নওয়াজ
বুধবার তার জবাব দিলেন। বললেন, ট্যাঙ্ক চালিয়ে
দারিদ্র দূর করা যায় না। বাগ্যুদ্ধ প্রত্যাশিত, চলতেই
পারে। কিন্তু ট্যাঙ্কের প্রতিযোগিতায় শুভ নেই, শীর্ষ
নেতাদের এই বোধ এই উপমহাদেশের অসংখ্য মানুষকে
নিশ্চিন্ত নিদ্রার রাত উপহার দেবে, তাতে কোনও
সন্দেহ নেই।
আশার কথা, আমরা দ্রুত ফেরার চেষ্টা করছি
স্বাভাবিকের পথে। অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে দূরে।
প্রিয় পাঠক, দীর্ঘ সময় ধরে আনন্দবাজার পত্রিকার
সংবাদে আপনি যে ভরসা রেখেছেন, সেই জন্য আমরা
কৃতজ্ঞ। এই ওয়েবসাইট-এর হোমপেজের খবরগুলি যদিও
নির্বিঘ্নেই পড়তে পারবেন কিন্তু বিস্তারিত খবর
পড়তে হলে নীচের ধাপগুলি অনুসরণ করে আপনার
ব্রাউজার-এর অ্যাড ব্লকারটি আনইন্সটল করে নিন।

দিনাজপুরে ৯০০ বছরের পুরনো বিষ্ণু মন্দিরের সন্ধান

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  দিনাজপুরে ৯০০ বছরের পুরনো
বিষ্ণু মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। কাহারোল
উপজেলায় ডাবোর ইউনিয়নের মাধবগাঁও এলাকায় এই
মন্দিরটি একাদশ থেকে দ্বাদশ শতকের নবরথ বিশিষ্ট,
যা বাংলাদেশে আবিষ্কৃৃত মন্দিরের মধ্যে এই প্রথম।
এখানে দুষ্প্রাপ্য মোহিনীর মূর্তিও পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভগবান বিষ্ণুর একমাত্র নারী
অবতার। আর এই মূর্তিটি পূর্ব ভারতে পাওয়া প্রথম
মূর্তি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের
মতে, ভাগবত ও পুরানে ভগবান বিষ্ণুর ২২টি অবতারের
কথা বলা হয়েছে, মোহিনী তাদের মধ্যে অন্যতম এবং
একমাত্র নারীরুপ। ভারত উপমহাদেশের পূর্বাংশে এটি
প্রথম প্রস্তর নির্মিত মোহিনীর প্রতিমা২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী
কমিশনের অর্থায়নে দিনাজপুরে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ
চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপ দল। এই জরিপের
অংশ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে কাহারোল
উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের মাধবগাঁও এলাকায়
খননের কার্যক্রম শুরু করে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি দল।
মাত্র দুই সপ্তাহের খননেই এখানে পুরাতন
স্থাপত্যশৈলীর মন্দিরটি রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়
দলটি। এরপর বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে সংস্কৃতি
মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী
কমিশনের অর্থায়নে টানা ৩ মাসের অধিক সময়ে ধরে
খনন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে যে স্থাপনাটি
উন্মোচিত করেছেন তা বিষ্ণুমন্দির এবং সেটি একাদশ
থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যকার পূর্ব ভারতীয় হিন্দু
মন্দিরের গঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্থাপনাটির আদিমধ্যযুগ পূর্বভারতীয় মন্দির
স্থাপত্যের সাথে এই মন্দিরের সামঞ্জস্য রয়েছে।
বিশেষ করে উড়িষ্যার কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলী যেটি
একাদশ এবং দ্বাদশ শতকে বিকশিত হয়েছিল সেই
স্থাপত্যশৈলীর সাথে এর সামঞ্জস্য রয়েছে। এটি দু’টি
অংশে বিভক্ত, একটি গর্ভগৃহ যেখানে পূজা বা
উপাসনা করা হতো, এটি বিশেষ কিছু অভিক্ষেপ দিয়ে
চিহ্নিত। এই অভিক্ষেপগুলোকে স্থাপনা শিল্পের বা
শিল্পশাস্ত্রর ভাষা অনুযায়ী রথ বলা হয়। এখানে মোট
১১টি রথ রয়েছে, যার মধ্যে দু’টি উপরথ। পাশাপাশি
কিছু আলামতের ভিত্তিতে এটি নবরথ বিশিষ্ট একটি
মন্দির বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। খননকালে এখানে
প্রস্তর প্রতিমার ভগ্নাংশ হিসেবে হিন্দু দেবতা
বিষ্ণুর সমপদাস্থানক ভঙ্গিতে দন্ডায়মান প্রতিমার
হাতে থাকা শঙ্খ, চক্র, গদা, বিষ্ণুপ্রতিমার বনমালা
শোভিত পায়ের ভগ্নাংশ এবং একটি দেবি প্রতিমার
ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে।
এই খনন কার্যক্রমে বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে আসা
অভিজ্ঞ ১৩ জন শ্রমিকের সাথে আরও ২৬ জন স্থানীয়
শ্রমিক কাজ করছেন। খনন দলে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১০ জন
শিক্ষার্থী। তারা প্রাচীন এই খননকাজে অংশগ্রহন
করে স্থাপত্যের নকশা আকছেন।
ওই এলাকার অমৃত রায় জানান, এতদিন তারা এটিকে
ঢিবি বলেই জানতো। কিন্তু এর ভিতরে যে এত সুন্দর
একটি মন্দির রয়েছে তা তারা কোনভাবেই অনুমান
করতে পারেনি। তিনি জানান, অনেকেই এখানে ছাগল-
গরু বাঁধতো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
সীমা হক জানান, আবিষ্কৃত মন্দিরটির প্রবেশদ্বার পূর্ব
দিকে। প্রাচীন এই মন্দিরের নকশা ও স্থাপত্যশৈলী
দেখে সহজেই অনুমান করা যায় এক সময়ে এই অঞ্চল
উন্নত ও সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তণে এই অঞ্চল
অবহেলিত হয়ে পড়ে।
খনন দলের প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন জানান, স্থাপনাটির
স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য আদিমধ্যযুগ বা খ্রীষ্টিয় ষষ্ট
শতক থেকে ত্রোয়োদশ শতকের পূর্বভারতীয়
স্থাপত্যশৈলীর সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে। কিছু
আলামতের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এটি
একাদশ বা দ্বাদশ শতকের নবরথ বিশিষ্ট একটি বিষ্ণু
মন্দির। মন্দিরটি দু’টি অংশে বিভক্ত। পশ্চিম দিকে
১২/১২ মিটার নিরেট প্লাটফর্মের ছোট কক্ষ রয়েছে।
যেখানে প্রতিমার উপাসনা হতো। মন্দিরের বহির্গতের
অভিক্ষেপের সংখ্যা ৯টি। তাই এটিকে নবরথ মন্দির
বলা হচ্ছে। তিনি জানান, এটি বাংলাদেশে আবিস্কৃত
প্রথম নবরথ মন্দির। এর আগে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে
একটি পঞ্চরথ মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছিল।
অধ্যাপক ড. স্বাধীন জানান, মন্দিরটির স্থাপনারীতি
ও গঠনশৈলী নিয়ে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাবেক অধ্যাপক ও ভারতীয় স্থাপত্যের বিশেষজ্ঞ
দীপক সঞ্জন দাসের সাথে আলাপ হলে তিনি
জানিয়েছেন- মন্দিরটির উপরিকাঠামো পশ্চিম
বাংলার বাকুড়া জেলার সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের সাথে
সামঞ্জস্য রয়েছে। পাশাপাশি খনন কাজের শেষ
দিকে ঢিবির পূর্বাংশ থেকে একটি দুস্প্রাপ্য
প্রতিমার ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। প্রতিমাটি সম্পর্কে
দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত প্রতিমালক্ষনবিদ ও প্রাচীন
শিল্পকলার ইতিহাসবিদ ক্লদিন বুদজে পিক্রো সঙ্গে
যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিমাটিকে বিষ্ণুর নারী
অবতার মোহিনী হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
ক্লদিন জানিয়েছেন, প্রতিমাটি ভারত উপমহাদেশের
পূবাংশে এই প্রথম প্রস্থরনির্মিত বিষ্ণুর নারী অবতার
মোহিনীর মুর্তি। নবরথ বিষ্ণু মন্দির ও দুষ্প্রাপ্য
মোহিনীর প্রতিমা পাওয়ায় এই অঞ্চলের ইতিহাস,
ইতিহাসের স্বাক্ষ্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন ভাবনার
মোড় নিয়েছে।
অধ্যাপক সেন জানান, স্থানীয়দের দাবি রয়েছে এটি
যেন উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, কিন্তু সেটি করতে হলে
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমোদন ও সংরক্ষণ করা
লাগবে। সংরক্ষন না করেই এভাবে রেখে দিলে
কিছুদিনের মধ্যে এটি নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি
এলাকার লোকজনকে বোঝানো হয়েছে। প্রায় ৬শ’
গ্রামবাসীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে স্থানটি সংরক্ষণ
ও উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য।

দিনাজপুরে ৯০০ বছরের পুরনো বিষ্ণু মন্দিরের সন্ধান

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  দিনাজপুরে ৯০০ বছরের পুরনো
বিষ্ণু মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। কাহারোল
উপজেলায় ডাবোর ইউনিয়নের মাধবগাঁও এলাকায় এই
মন্দিরটি একাদশ থেকে দ্বাদশ শতকের নবরথ বিশিষ্ট,
যা বাংলাদেশে আবিষ্কৃৃত মন্দিরের মধ্যে এই প্রথম।
এখানে দুষ্প্রাপ্য মোহিনীর মূর্তিও পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভগবান বিষ্ণুর একমাত্র নারী
অবতার। আর এই মূর্তিটি পূর্ব ভারতে পাওয়া প্রথম
মূর্তি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের
মতে, ভাগবত ও পুরানে ভগবান বিষ্ণুর ২২টি অবতারের
কথা বলা হয়েছে, মোহিনী তাদের মধ্যে অন্যতম এবং
একমাত্র নারীরুপ। ভারত উপমহাদেশের পূর্বাংশে এটি
প্রথম প্রস্তর নির্মিত মোহিনীর প্রতিমা২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী
কমিশনের অর্থায়নে দিনাজপুরে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ
চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপ দল। এই জরিপের
অংশ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে কাহারোল
উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের মাধবগাঁও এলাকায়
খননের কার্যক্রম শুরু করে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি দল।
মাত্র দুই সপ্তাহের খননেই এখানে পুরাতন
স্থাপত্যশৈলীর মন্দিরটি রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়
দলটি। এরপর বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে সংস্কৃতি
মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী
কমিশনের অর্থায়নে টানা ৩ মাসের অধিক সময়ে ধরে
খনন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে যে স্থাপনাটি
উন্মোচিত করেছেন তা বিষ্ণুমন্দির এবং সেটি একাদশ
থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যকার পূর্ব ভারতীয় হিন্দু
মন্দিরের গঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্থাপনাটির আদিমধ্যযুগ পূর্বভারতীয় মন্দির
স্থাপত্যের সাথে এই মন্দিরের সামঞ্জস্য রয়েছে।
বিশেষ করে উড়িষ্যার কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলী যেটি
একাদশ এবং দ্বাদশ শতকে বিকশিত হয়েছিল সেই
স্থাপত্যশৈলীর সাথে এর সামঞ্জস্য রয়েছে। এটি দু’টি
অংশে বিভক্ত, একটি গর্ভগৃহ যেখানে পূজা বা
উপাসনা করা হতো, এটি বিশেষ কিছু অভিক্ষেপ দিয়ে
চিহ্নিত। এই অভিক্ষেপগুলোকে স্থাপনা শিল্পের বা
শিল্পশাস্ত্রর ভাষা অনুযায়ী রথ বলা হয়। এখানে মোট
১১টি রথ রয়েছে, যার মধ্যে দু’টি উপরথ। পাশাপাশি
কিছু আলামতের ভিত্তিতে এটি নবরথ বিশিষ্ট একটি
মন্দির বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। খননকালে এখানে
প্রস্তর প্রতিমার ভগ্নাংশ হিসেবে হিন্দু দেবতা
বিষ্ণুর সমপদাস্থানক ভঙ্গিতে দন্ডায়মান প্রতিমার
হাতে থাকা শঙ্খ, চক্র, গদা, বিষ্ণুপ্রতিমার বনমালা
শোভিত পায়ের ভগ্নাংশ এবং একটি দেবি প্রতিমার
ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে।
এই খনন কার্যক্রমে বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে আসা
অভিজ্ঞ ১৩ জন শ্রমিকের সাথে আরও ২৬ জন স্থানীয়
শ্রমিক কাজ করছেন। খনন দলে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১০ জন
শিক্ষার্থী। তারা প্রাচীন এই খননকাজে অংশগ্রহন
করে স্থাপত্যের নকশা আকছেন।
ওই এলাকার অমৃত রায় জানান, এতদিন তারা এটিকে
ঢিবি বলেই জানতো। কিন্তু এর ভিতরে যে এত সুন্দর
একটি মন্দির রয়েছে তা তারা কোনভাবেই অনুমান
করতে পারেনি। তিনি জানান, অনেকেই এখানে ছাগল-
গরু বাঁধতো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
সীমা হক জানান, আবিষ্কৃত মন্দিরটির প্রবেশদ্বার পূর্ব
দিকে। প্রাচীন এই মন্দিরের নকশা ও স্থাপত্যশৈলী
দেখে সহজেই অনুমান করা যায় এক সময়ে এই অঞ্চল
উন্নত ও সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তণে এই অঞ্চল
অবহেলিত হয়ে পড়ে।
খনন দলের প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন জানান, স্থাপনাটির
স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য আদিমধ্যযুগ বা খ্রীষ্টিয় ষষ্ট
শতক থেকে ত্রোয়োদশ শতকের পূর্বভারতীয়
স্থাপত্যশৈলীর সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে। কিছু
আলামতের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এটি
একাদশ বা দ্বাদশ শতকের নবরথ বিশিষ্ট একটি বিষ্ণু
মন্দির। মন্দিরটি দু’টি অংশে বিভক্ত। পশ্চিম দিকে
১২/১২ মিটার নিরেট প্লাটফর্মের ছোট কক্ষ রয়েছে।
যেখানে প্রতিমার উপাসনা হতো। মন্দিরের বহির্গতের
অভিক্ষেপের সংখ্যা ৯টি। তাই এটিকে নবরথ মন্দির
বলা হচ্ছে। তিনি জানান, এটি বাংলাদেশে আবিস্কৃত
প্রথম নবরথ মন্দির। এর আগে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে
একটি পঞ্চরথ মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছিল।
অধ্যাপক ড. স্বাধীন জানান, মন্দিরটির স্থাপনারীতি
ও গঠনশৈলী নিয়ে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাবেক অধ্যাপক ও ভারতীয় স্থাপত্যের বিশেষজ্ঞ
দীপক সঞ্জন দাসের সাথে আলাপ হলে তিনি
জানিয়েছেন- মন্দিরটির উপরিকাঠামো পশ্চিম
বাংলার বাকুড়া জেলার সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের সাথে
সামঞ্জস্য রয়েছে। পাশাপাশি খনন কাজের শেষ
দিকে ঢিবির পূর্বাংশ থেকে একটি দুস্প্রাপ্য
প্রতিমার ভগ্নাংশ পাওয়া গেছে। প্রতিমাটি সম্পর্কে
দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত প্রতিমালক্ষনবিদ ও প্রাচীন
শিল্পকলার ইতিহাসবিদ ক্লদিন বুদজে পিক্রো সঙ্গে
যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিমাটিকে বিষ্ণুর নারী
অবতার মোহিনী হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
ক্লদিন জানিয়েছেন, প্রতিমাটি ভারত উপমহাদেশের
পূবাংশে এই প্রথম প্রস্থরনির্মিত বিষ্ণুর নারী অবতার
মোহিনীর মুর্তি। নবরথ বিষ্ণু মন্দির ও দুষ্প্রাপ্য
মোহিনীর প্রতিমা পাওয়ায় এই অঞ্চলের ইতিহাস,
ইতিহাসের স্বাক্ষ্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন ভাবনার
মোড় নিয়েছে।
অধ্যাপক সেন জানান, স্থানীয়দের দাবি রয়েছে এটি
যেন উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, কিন্তু সেটি করতে হলে
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমোদন ও সংরক্ষণ করা
লাগবে। সংরক্ষন না করেই এভাবে রেখে দিলে
কিছুদিনের মধ্যে এটি নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি
এলাকার লোকজনকে বোঝানো হয়েছে। প্রায় ৬শ’
গ্রামবাসীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে স্থানটি সংরক্ষণ
ও উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য।

মণ্ডপে মানুষের ঢল, পথে নেমে পড়ল পুলিশও

চতুর্থীর সন্ধ্যা থেকেই মহানগরের রাস্তায় রাস্তায়
মানুষের ঢল। ব্যতিক্রম নয় বিধাননগর থেকে নিউ
টাউনও। তাই কলকাতার ধাঁচে বুধবার থেকেই যান
নিয়ন্ত্রণে পথে নেমে পডল বিধাননগর কমিশনারেটের
পুলিশ। পাশাপাশি নজরদারিও বাডানো হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ আগেও চতুর্থী থেকে নিয়ন্ত্রণের
কাজে পথে নেমেছে। কিন্তু বিধাননগর, দক্ষিণ দমদম
এলাকায় তেমনটা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছরে
পুজোর মুখে ভিআইপি রোড, সল্টলেক, দক্ষিণ দমদম পুর
এলাকা, রাজারহাট এক্সপ্রেসওয়ে-সহ বিভিন্ন
রাস্তায় যানজট ক্রমশ বেেডছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা
মাথায় রেখে এ দিন থেকেই ভিড ও যানবাহন
নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে দিল বিধাননগর পুলিশ।
তবে এ বার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি
নজরদারিরও রকমারি পরিকল্পনা করেছে পুলিশ।
এ দিন কমিশনারেটের সদর দফতরে পুজো গাইড প্রকাশ
করেছে বিধাননগর পুলিশ। পরে বিধাননগরের ডিসি
(সদর) নিশাদ পারভেজ জানান, ১৫০০ জন পুলিশকর্মীর
পাশাপাশি সিভিক পুলিশকেও পথে নামানো হচ্ছে।
পাশাপাশি, নজরদারিতে এ বারের অস্ত্র সদ্য হিডকো
থেকে পাওয়া ড্রোন। প্রয়োজনে সেই ড্রোন ব্যবহার
করে নজরদারি চালানো হবে। এ ছাডাও বম্ব স্কোয়াড
ও ডগ স্কোয়াডকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইভটিজিং
রুখতে সাদা পোশাকে পুলিশবাহিনীও ছডিয়ে দেওয়া
হয়েছে বিভিন্ন শপিং মল এলাকা ও যে সব পুজো
মণ্ডপে জনসমাগম বেশি সে সব জায়গায়।
বুধবার সন্ধ্যা থেকেই পথে নেমেছে পুলিশ। বিশেষত,
ভিআইপি রোেডর ধারে বেশ কয়েকটি বড পুজোকে
ঘিরে মানুষের ঢল নেমেছে। ফলে গাডির গতি কমেছে।
মঙ্গলবার রাতেও ভিআইপি রোেড যানজট ছডিয়ে
পেডছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে রাত গডিয়ে
যায়।
তবে শুধু ভিআইপি রোেডর ধারেই নয়, বেশ কয়েকটি
পুজোকে ঘিরে ট্রাফিক পরিকল্পনা সাজিয়েছে
পুলিশ। কোথায় কোথায় পার্কিং লট থাকছে আর
কোথায় থাকছে না, সে সব পথ নির্দেশিকা থাকবে।
কয়েকটি রাস্তা বন্ধ এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে 'ওয়ান
ওয়ে' করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে উল্টোডাঙা
থেকে ভিআইপি রোড, সল্টলেকের একাধিক
প্রবেশপথে যানজট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বিশেষ
গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। এক
পুলিশকর্তার কথায়, উল্টোডাঙা স্টেশন, ই এম বাইপাস
থেকে সল্টলেক, নিউটাউন এবং দক্ষিণ দমদম, দমদম
এলাকায় ভিডকে নিয়ন্ত্রণ করার দিকে নজর দেওয়া
হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়
করে পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে।
তবে শুধুমাত্র যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কিংবা জনসমাগম
বেশি, এমন জায়গায় নজরদারি বাডানোই নয়, তার
বাইরেও নজরদারি নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।
বিশেষত, রাজারহাট এক্সপ্রেসওয়ে, নিউ টাউন,
সল্টলেকের বিভিন্ন ফাঁকা রাস্তা, ব্লকের ভিতরের
রাস্তাগুলিকে এ বার নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা
হচ্ছে। অনেক সময়ে ভিেডর সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা ঢুকে
পডছে ব্লকগুলিতে। পাশাপাশি ফাঁকা রাস্তায়
বেপরোয়া যান চলাচলকে নিয়ন্ত্রণে আনতেও
পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করা হচ্ছে।
তবে এ সবের বাইরেও পানশালা, রেস্তোরাঁগুলির
দিকেও বাডতি নজরদারি চালানো হবে বলে পুলিশ
সূত্রের দাবি।
এ দিন পুজো গাইড প্রকাশ অনুষ্ঠানে নগরোন্নয়ন
দফতরের সচিব দেবাশিস সেন, পুলিশ কমিশনার
জ্ঞানবন্ত সিংহ-সহ শীর্ষ পুলিশকর্তারা হাজির
ছিলেন।

সন্দেহজনক পাক নৌকার ৯ যাত্রীকে গ্রেফতার করল পুলিশ

গুজরাত উপকূলের কাছ থেকে আটক হওয়া সন্দেহভাজন
৯ পাকিস্তানিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। জলসীমা
অঞ্চল আইন লঙ্ঘন করায় নবি বন্দর থানায় মঙ্গলবার
তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে নৌ
বাহিনীর এক কর্তা জানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে
সন্দেহজনক কোনও জিনিস পাওয়া না গেলেও
বিষয়টিকে খুব একটা হাল্কা ভাবে নিতে চাইছে না
উপকবলরক্ষী বাহিনী। তাই মামলা রুজু করে পুলিশের
সঙ্গে যৌথ ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে তারা।
রবিবার সকাল সওয়া ১০টা নাগাদ পাক জলযানটিকে
আরব সাগর থেকে আটক করা হয়েছিল। উপকূলের
কাছাকাছি পাক জলযানের গতিবিধি দেখেই
উপকবলরক্ষী বাহিনী জাহাজ আইসিজিএস সমুদ্র
পাবককে সেখানে পাঠয়। পাক নৌকার মধ্যে ৯ জন
যাত্রী ছিল।

আসল পরীক্ষা কিন্তু এখনও বাকি

পা ক-মদতের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের প্রত্যয়ী
প্রত্যাঘাতকে 'মোদী ডকট্রিন' বা 'মোদী নীতি', কী
বলব জানি না। যা-ই বলি না কেন, ভারতীয় সেনার
সার্জিক্যাল স্ট্রাইককেই কি তবে 'মোদী নীতি'-র
মহাপরীক্ষা ধরে নেব? বোধহয় না। পাকিস্তানকে এক
গোল দিয়েছি ভেবে আমরা যতই উল্লসিত হই না কেন,
এক মুহূর্তের জন্যও ভোলা যাচ্ছে না যে খেলাটা শেষ
অবধি গডাতে এখনও ঢের বাকি। তাও অবশ্য
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে দেশ জুেড
জাতীয়তাবাদের ঢক্কানিনাদ শুরু হয়ে গিয়েছে। অবাক
হওয়ার কিছু নেই। হাজার হোক, ভারতের মাটিতে
জঙ্গি হানার পর প্রত্যাঘাত তো কখনওই ঘটেনি! প্রতি
বারই পাকিস্তানের হাতে 'অভ্রান্ত' প্রমাণসাবুদ তুলে
দেওয়া হয়েছে, ওই পর্যন্তই!
পরমাণু-অস্ত্রে বলীয়ান প্রতিবেশী দেশকে চটানোর
ঝুঁকি ভারতের নেতারা কোনও কালে নিতে চাননি।
সেই দিক দিয়ে, গত সপ্তাহের 'স্ট্রাইক' সত্যিই একটা
নতুন ঘটনা, এক ধাক্কায় খেলাটাকে পাল্টে দিতে
পারে এমন একটা শট। প্রেক্ষিত পরিবর্তন।
পরিবর্তনের সঙ্গেই পা মিলিয়ে আসে আরও একটা
জিনিস। অনিশ্চয়তা। ঝুঁকি। পরিবর্তনের ধারাটি কী
রকম হবে, বোঝা যায় না। প্রধানত পাকিস্তানের শাসক
গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়ার উপর সেটা নির্ভর করবে। পাক
রাজনীতির আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার পিছনে এখন
সম্ভবত দুই রকম চাপ। একে তো পাক মনোভাবের মধ্যেই
একটা তৈমুর-লঙ-সুলভ জঙ্গিপনা আছে। তার ওপর একটা
স্ট্র্যাটেজির বিষয়ও আছে। তুলনায় ছোট সংঘাতকে
কেন্দ্র করে যুদ্ধু-যুদ্ধু ভাবটা ঝালিয়ে নেওয়াটা সে
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্য জরুরি হতে পারে।
এমনিতেও সামরিক তত্ত্ব বলে- যে পক্ষের লক্ষ্য
আত্মরক্ষা, পরস্পরকে অসুবিধার মধ্যে ফেলার লডাইয়ে
শেষে তার পরাজয়ই অবধারিত। আবার এও ঠিক, শক্তির
দিক দিয়ে ছোট যে, তাকেই শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থায়
হার স্বীকার করতে হয়। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীকে
দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক, প্রথম থেকেই তারা
পাকিস্তানকে মহম্মদ আলি জিন্নার কথানুযায়ী
'পোকায়-খাওয়া', অর্থাত্ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে
দেখে আসছে। মনে করে আসছে, পাকিস্তান স্বপ্নের
উপর ভর করে একটা নতুন দেশ পেতে হলে কাশ্মীর,
বালুচিস্তান, আফগানিস্তান, সব তাদের পাওয়া উচিত
ছিল। তাই স্বাধীনতার পর থেকে এই অসাধিত স্বপ্নের
সাধনাকাঙ্ক্ষায় তাদের দিনযাপন। ঠিক যে ভাবে
কয়েক শতাব্দী আগে এশিয়ার রুক্ষ শুষ্ক তৃণভূমিতে
তৈমুরলঙ দাপিয়ে বেডাতেন, পেশিবলের উপর ভর করে
তিনি ও তাঁর উত্তরসূরিরা এশিয়ার, প্রধানত মধ্য ও
দক্ষিণ এশিয়ার শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা
করতেন, সেই মানসিকতা আজও পাকিস্তানে দেখতে
পাওয়া যায়। দেশভাগের সময় ভারত থেকে এলিট
শ্রেণির মুসলিমরা প্রায় পুরোপুরি বেরিয়ে
গিয়েছিলেন, তথাকথিত 'হিন্দু ভারতে' থেকে
গিয়েছিলেন কেবল দরিদ্র ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদে
মস্তিষ্কধৌত মুসলমানরা। তার ফলে পাকিস্তানের এই
মানসিকতাটি প্রথমাবধি গভীর ভাবে প্রোথিত।
জন্মের মুহূর্ত থেকেই সংঘাত-সংঘর্ষ পাকিস্তান
দেশটির মূলগত স্পিরিট। কেন তারা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে
জঙ্গি সমর্থন করে বা সামরিক হুঙ্কার দিয়ে যায়,
বুঝতে অসুবিধে হয় না। এই নতুন পর্বে কি এই সব
পাল্টানোর সম্ভাবনা আছে? মনে হয় না।
তাই আরও সংঘাত, আরও রক্তক্ষয়ের জন্য ভারতের
তৈরি থাকা দরকার। দুর্ভাগ্যক্রমে, আমাদের সীমান্ত
অঞ্চলগুলির রক্ষণ নিয়ে ভাবনা নেই। মুশকিল আমাদের
কেন্দ্রভূমিতে- হট্টগোল ও বৈচিত্রে ভরপুর আমাদের
শহরগুলিতে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই,
অনেক দশকের রাজনৈতিক খেয়োখেয়িতে সে সব নষ্ট।
এক দিকে প্রশাসনিক অদক্ষতা, অন্য দিকে
জাতীয়তাবাদ-বিরোধিতার প্রচ্ছন্ন সংস্কৃতি, সব
মিলিয়ে একটা দুর্বলতার বলয়। শত্রুরা চাইলে অতি
সহজে নিজেদের প্রয়োজনে এই পরিসর ব্যবহার করতে
পারে। ২৬-১১র মুম্বই সন্ত্রাস কিংবা ২০০১ সালের
সংসদ আক্রমণ, এমনকী এই কয়েক মাস আগের পঠানকোট
জঙ্গি হানার মতো আর একটিও ঘটনা যদি ঘটে, সে
ক্ষেত্রে মোদী সরকারের উপর কী সাংঘাতিক চাপ
তৈরি হবে, ভাবলেও আতঙ্ক উপস্থিত হয়। সেই
মারাত্মক চাপের সামনে কী করবে সরকার?
কী করবে, সেটাই ঠিক করে দেবে বর্তমান মোদী নীতি
সফল না ব্যর্থ। সেখানেই তার আসল পরীক্ষা। পুরোপুরি
যুদ্ধ কেবল পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের কারণেই ভয়ানক
বিপজ্জনক নয়। যুদ্ধ সত্যি শুরু হলে দুই দেশের
অর্থনীতিরই বিষম ক্ষতি। ভারতের ক্ষেত্রে, প্রভূত
পরিমাণ অর্থনৈতিক সম্পদ বিনষ্ট হবে, উন্নয়নের গতি
কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে। এই মুহূর্তে ভারত বেশ একটা
নাটকীয় সম্ভাবনার দোরগোডায়। যুদ্ধ লাগলে সে
সম্ভাবনা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক ক্ষমতা
ও প্রতিশ্রুতির দিক দিয়ে চিনের অনেক পিছনে চলে
যাবে ভারত, দিল্লিকে সমস্ত আন্তর্জাতিক উচ্চাশা ও
স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দিতে হবে। পাকিস্তানের ক্ষতি
অবশ্যই অনেক বেশি। হয়তো একদম শেষই হয়ে যাবে
দেশটা।
তবে কি না, যুদ্ধ ছাডাও আরও নানা রকম প্রত্যাঘাত
হতে পারে। পাকিস্তানি অর্থনীতিকে আঘাত করার
লক্ষ্যে প্রচ্ছন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। পাক
রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা যেতে
পারে। মুশকিল হল, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে যত
প্রচার করা গিয়েছে, এগুলো নিয়ে হয়তো তা করা
যাবে না। তার অর্থ, এর থেকে রাজনৈতিক সুবিধা
আদায় করাও কঠিন হবে। এখানে মোদী নীতি মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের থেকে কিছু বুদ্ধি ধার নিতে পারে। তিন
দশক ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মার্কিনরা যে
গোপন কিন্তু নাছোড যুদ্ধ চালিয়ে এসেছে, তাতে
পরিস্থিতি কখনও আয়ত্তের বাইরে যায়নি, দুই দেশের
সামরিক বাহিনী পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে
নেয়নি। তবু সোভিয়েত ইউনিয়নকে শেষে হার মানতে
হয়েছে।
উপমহাদেশে ঘটনা যে দিকে গডাবে, মোদী নীতির
চরিত্রও তার সঙ্গে তাল রেখে পাল্টাবে। এখন কথা
হল, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যতা বা জনমতের
চাপটাই কি প্রধান বিবেচ্য? না কি পাকিস্তানি
জাতীয় শক্তির ক্রম-বিনাশই লক্ষ্য? সংবাদমাধ্যমের
হেডলাইন অনুযায়ী নীতি ঠিক হবে? নাকি
নেপথ্যমঞ্চের গোপন সামরিক কার্যক্রম অনুযায়ী ঠিক
হবে? প্রতিবেশী দেশ একটার পর একটা ক্ষত তৈরি করে
যাবে, আর দিল্লি সেগুলো মানতে মানতে চলবে? না
কি, দিল্লি সোজাসুজি যুদ্ধ ঘোষণাই বাঞ্ছনীয় মনে
করবে? সম্ভাবনা অনেক। তবে ঘটনা যে দিকেই গডাক
না কেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতির একটা বড সমস্যা আছে।
একটি বিশেষ স্ট্র্যাটেজি নিয়ে চললে ভবিষ্যতে
কোন দিকে কতখানি এগোনো যাবে, আগে থেকে
বোঝা যায় না। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরেও চলে
যেতে পারে। আর সেই দুর্বলতার অবকাশে ঘনিয়ে
আসতে পারে বড বিপদ। বিপদ মানে এ ক্ষেত্রে কিন্তু
বিরাট বিপদ, গোটা উপমহাদেশের বিপদ।
সামরিক ইতিহাসের বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন
প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশীয় যুদ্ধের (৪৩১-৪০৪
খ্রিস্টপূর্বাব্দ) কথা। গণতান্ত্রিক এথেন্স এই ভাবেই
স্পার্টার সামরিক রাষ্ট্রের কাছে হেরে গিয়েছিল।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অপ্রত্যাশিত ঘটনাপ্রবাহের
সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি তারা। নিজের
ক্ষমতা প্রায় অতিক্রম করে এথেন্স বহু দূরের দ্বীপ
সিসিলিতে সামরিক অভিযান চালায়। সেই অদূরদৃষ্টির
অভিঘাত আর সামলানো যায়নি। লিবারেল
এথেনীয়দের পরাজিত করে শুরু হয় কট্টর শাসনের
পালা। গ্রিক ইতিহাসের মোডই ঘুরে যায় তাতে। প্রমাণ
হয়ে যায়, প্রগতিশীল সভ্যতা বা রাষ্ট্রই সর্বদা শেষ
পর্যন্ত জয়লাভ করতে পারে না।
উল্টো উদাহরণও আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে এনেছিল পার্ল হারবারের উপর
জাপানের আক্রমণ। পশ্চিম উপকূলীয় মার্কিন
নৌবাহিনী প্রায় শেষ হয়ে যায় সেই আঘাতে। কিন্তু
আমেরিকা ঘুরে দাঁডায়। জাপানের উপর এক হাত নিয়ে
যুদ্ধ শেষ করে দেয়। এই বিরাট সাফল্যের পিছনে ছিল
মার্কিন জাতীয় আবেগের তীব্রতা। প্রায় অর্ধেক
পৃথিবী পার হয়ে দেশের জন্য প্রাণ দিতে গিয়েছিল
বিশালাকার সামরিক বাহিনী। এর মধ্যেও একটা
'স্ট্র্যাটেজিক ওভাররিচ' ঘটতে পারত, কিন্তু ঘটেনি।
প্রাচীন গ্রিস না পারলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
আমেরিকা নিজের স্ট্র্যাটেজি আর নিজের লক্ষ্যে
সাযুজ্য রাখতে পেরেছিল। অবশ্য দেশের ভেতরে অত
বড শিল্প-ক্ষেত্র, শক্তপোক্ত ধনতান্ত্রিক ভিত,
প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের বিরাট জোগান ছাডা এই
সাফল্য সম্ভব হত না।
সুতরাং ইসলামাবাদের তৈমুরবাহিনীকে শেষ অবধি
চূডান্ত শিক্ষাটা ভারত দিতে পারবে কি না, সেটা
নির্ভর করছে ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে আমরা
নিজেরা কী ভাবে এগোই, তার উপরই। কোন পথ ধরব
আমরা? প্রাচীন এথেন্স-বাসীর মতো? 

বাঙালি হিন্দু বিবাহ

বাঙালি হিন্দু বিবাহ বলতে বোঝায় ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রে
বসবাসকারী বাঙালি হিন্দুদের বিবাহ-সংক্রান্ত
নিজস্ব প্রথা ও রীতিনীতি। উচ্চবর্ণীয় হিন্দু সমাজের
বিবাহে প্রধানত দুইটি আচারগত বিভাগ লক্ষিত হয়।
যথা, বৈদিক ও লৌকিক। লৌকিক আচারগুলি "স্ত্রী
আচার" নামে পরিচিত।[১] বৈদিক আচারগুলির মধ্যে
অবশ্য পালনীয় প্রথাগুলি হল কুশণ্ডিকা, লাজহোম,
সপ্তপদী গমন, পাণিগ্রহণ, ধৃতিহোম ও চতুর্থী হোম।[১]
বৈদিক আচারগুলির সঙ্গে লৌকিক আচারগুলির
কোনো সম্পর্ক নেই।[১] লৌকিক আচারগুলি অঞ্চল, বর্ণ
বা উপবর্ণভেদে এক এক প্রকার হয়। [১] নিম্নবর্ণীয়
হিন্দুদের মধ্যে লৌকিক আচার তো বটেই বিবাহের
মৌলিক আচারগুলির ক্ষেত্রেও সম্প্রদায়ভেদে
পার্থক্য লক্ষিত হয়।[১]
অতীতে বাঙালি হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহের ব্যাপক
প্রচলন ছিল। বর্তমানে বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ।
বর্তমান কালে পরিণত বয়সেই বিবাহ প্রথা প্রচলিত।
তবে বিবাহে পণপ্রথা এখনও বহুল প্রচলিত।
১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি হিন্দু সমাজে বিবাহ
বিচ্ছেদ আইনসিদ্ধ হয়। ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে বিধবা বিবাহ
আইন পাস হয়। হিন্দু এই দুই প্রথা আজও সমাজের বৃহত্তর
অংশে প্রচলিত নয়। [১] নাগরিক সমাজে অসবর্ণ
বিবাহও বর্তমানে প্রচলিত হয়েছে।
বিবাহ অনুষ্ঠান
বাঙালি ব্রাহ্মণ সমাজে পাঁচটি শাখা রয়েছে —
রাঢ়ী, বারেন্দ্র, বৈদিক, সপ্তশতী ও মধ্যশ্রেণী।
বাঙালি কায়স্থ সমাজে রয়েছে চারটি শাখা — উত্তর
রাঢ়ী, দক্ষিণ রাঢ়ী, বারেন্দ্র ও বঙ্গজ। [১] এই সকল বর্ণ
এবং তাদের শাখা ও উপশাখাগুলির মধ্যে বিবাহ
প্রথায় দুটি বিভাগ দেখা যায় — বৈদিক ও লৌকিক।[১]
লৌকিক প্রথাগুলি মেয়েলি আচার। এই কারণে এগুলি
‘স্ত্রী আচার’ নামে পরিচিত। বৈদিক আচারে সাম,
যজুঃ ও ঋক্ বেদত্রয়ের অনুসরণকারী ব্রাহ্মণদের মধ্যে
বিবাহ প্রথায় আবার সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। [১]
হিন্দু বিবাহের বৈদিক আচারগুলির মধ্যে অপরিহার্য
হল কুশণ্ডিকা, লাজহোম (লাজ বা খই দিয়ে
যজ্ঞানুষ্ঠান), সপ্তপদী গমন, পাণিগ্রহণ (কন্যার পাণি
অর্থাৎ হস্ত গ্রহণ), ধৃতিহোম (ধারণ করার অর্থাৎ
কন্যাকে ধরে রাখার যজ্ঞ) ও চতুর্থী হোম।[১] এছাড়া
পালিত হয় অরুন্ধতী নক্ষত্র দর্শন, ধ্রুব নক্ষত্র দর্শন,
শিলারোহণ ইত্যাদি কয়েকটি বৈদিক প্রথাও। [১]
বৈদিক প্রথাগুলি বিধিবদ্ধ শাস্ত্রীয় প্রথা ও
বিবাহের মূল অঙ্গ।
বাঙালি হিন্দু বিবাহের লৌকিক আচার বহুবিধ। এই
প্রথাগুলি বর্ণ, শাখা, উপশাখা এবং অঞ্চল ভেদে
ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের হয়। এগুলির সঙ্গে বৈদিক
প্রথাগুলির কোনো যোগ নেই।
পাটিপত্র
পাটিপত্র বাঙালি হিন্দু বিবাহের প্রথম আচার। এই
আচার লগ্নপত্র বা মঙ্গলাচরণ নামেও পরিচিত। ঘটকের
মাধ্যমে সম্বন্ধ করে বিবাহ স্থির হলে নগদ বা
গহনাপত্রে যৌতুক ও অন্যান্য দেনাপাওনা
চূড়ান্তভাবে স্থির করার জন্য যে অনুষ্ঠান হয়, তাকেই
পাটিপত্র বলে। এই আচারের মাধ্যমেই বিবাহের
অন্যান্য আচারের সূচনা ঘটে। [১]
পানখিল
পানখিল বাঙালি হিন্দু বিবাহের দ্বিতীয় আচার। এটি
পাটিপত্রের ঠিক পরেই পালিত হয়। পানখিলের অর্থ
পান পাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে খিল দেওয়া বা খড়কে
বেঁধানো। এই আচারটি প্রথমে বরের বাড়িতে এবং
পরে কনের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। পানখিল আচারে
বাড়ির মেয়েরা এবং প্রতিবেশিনীরা বিয়ের গান
গেয়ে থাকে। এই গানের বিষয়বস্তু হল রাম ও সীতার
বিবাহ।[১]
দধি মঙ্গল
দধি মঙ্গল : বিবাহের দিন বর ও কন্যার উপবাস। তবে
উপবাস নির্জলা নয়। জল মিষ্টি খাওয়ার বিধান আছে।
তাই সারাদিনের জন্য সূর্য্যোদয়ের আগে বর ও
কন্যাকে চিড়ে ও দৈ খাওয়ানো হয়।
গায়ে হলুদ
গায়ে হলুদ : সংস্কৃত ভাষায় এই রীতিকে বলা হয়
গাত্রহরিদ্রা। হিন্দু ধর্মে কয়েকটি জিনিসকে শুভ বলা
হয়। যেমন শঙ্খধ্বনি, হলুদ ইত্যাদি। প্রথমে বরকে ও
নিতবরকে সারা গায়ে হলুদ মাখানো হয়। পরে সেই হলুদ
কন্যার বাড়ি পাঠানো হয়। কন্যাকে সেই হলুদ মাখানো
হয়।
শঙ্খ কঙ্কন
শঙ্খ কঙ্কন: কন্যাকে শাঁখা পরানো হয়।
এরপর বিকালে বিবাহের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়
বর বরণ
বর বরণ: বর বিবাহ করতে এলে তাকে স্বাগত জানান
কন্যাপক্ষ। সাধাবনত: কন্যার মা তার জামাতাকে
একটি থালায় প্রদীপ, ধান দুর্ব্ব ও অন্যান্য কিছু বরণ
সামগ্রী নিয়ে বরণ করেন। এরপর বরকে বাড়ীর ভিতরে
নিয়ে যাওয়া হয় ও দুধ এবং মিষ্টি খাওয়ানো হয় ।
সাত পাক
সাত পাক : বিবাহের মণ্ন্ডপে প্রথমে বরকে আনা হয়।
এরপর কন্যাকে পিঁড়িতে বসিয়ে আনা হয়। সাধারণত:
কন্যার জামাইবাবুরা পিঁড়ি ধরে থাকেন। কন্যা পান
পাতা দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখেন। কন্যাকে
পিঁড়িতে করে বরের চারপাশে সাতপাক ঘোরানো হয়।
শুভদৃষ্টি
শুভদৃষ্টি : বিবাহের মন্ডপে জনসমক্ষে বর ও কন্যা একে
অপরের দিকে চেয়ে দেখন।
মালা বদল
মালা বদল: কন্যা ও বর মালাবদল করেন। এই রীতির অর্থ
হচ্ছে দুজন একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে
নিলেন। মুসলমান মতে একই ভাবে কন্যাকে বলতে হয়
"কবুল"। আবার ঠিক এই রকমই খৃষ্টান মতে চার্চের
ফাদারের সামনে বর ও কন্যা বিবাহে সন্মতি জানান।
সম্প্রদান
সম্প্রদান : কন্যার পিতা কন্যাকে জামাতার হাতে
সম্প্রদান করেন বেদমন্ত্রে। বরও জানান যে তিনি
কন্যার ভরন পোষনের দ্বায়িত্ব নিলেন। বিবাহের মন্ত্র
হল " যদেতৎ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম। যদিদং হৃদয়ং মম,
তদস্তু হৃদয়ং তব।।"
অঞ্জলি
অঞ্জলি : কন্যা ও বর খৈ অগ্নাহুতি দেন। প্রচলিত
বাংলায় একে বলে খৈ পোড়া। বৈদিক যুগে মানুষ
নানা ধরনের শক্তির উপাসনা করতেন। অগ্নিও তাদের
মধ্যে অন্যতম।
সিঁদুর দান
সিঁদুর দান : বিবাহের শেষ রীতি হল বর কন্যার কপালে
সিঁদুর লেপন করেন। বাঙালি হিন্দু নারীরা স্বামীর
মঙ্গল কামনায় সিঁদুর পরেন।
ভেদাভেদ
জাতিভেদে ও অঞ্চলভেদে এই রীতি কিছু পরিবর্তিত
হয়। লৌকিক আচারগুলি অঞ্চল, বর্ণ বা উপবর্ণভেদে এক
এক প্রকার হয়।[১] নিম্নবর্ণীয় হিন্দুদের মধ্যে লৌকিক
আচার তো বটেই বিবাহের মৌলিক আচারগুলির
ক্ষেত্রেও সম্প্রদায়ভেদে পার্থক্য লক্ষিত হয়।

কান্তজির মন্দির

কান্তজীউ মন্দির বা কান্তজির মন্দির বা কান্তনগর
মন্দির বাংলাদেশের দিনাজপুর শহর থেকে ২০
কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর
থেকে সাত কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সুন্দরপুর
ইউনিয়নে, দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে
ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন মন্দির । এটি
নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত কারণ তিনতলাবিশিষ্ট
এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রত্ন ছিলো। কান্তজীউ
মন্দির ১৮ শতকে নির্মিত একটি চমৎকার ধর্মীয়
স্থাপনা। মন্দিরটি হিন্দু ধর্মের কান্ত বা কৃষ্ণের
মন্দির হিসেবে পরিচিত যা লৌকিক রাধা-কৃষ্ণের
ধর্মীয় প্রথা হিসেবে বাংলায় প্রচলিত। ধারণা করা
হয়, মহারাজা সুমিত ধর শান্ত এখানেই জন্ম গ্রহণ
করেছিলেন।
মন্দিরের উত্তর দিকের ভিত্তিবেদীর শিলালিপি
থেকে জানা যায়, তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা
জমিদার প্রাণনাথ রায় তাঁর শেষ বয়সে মন্দিরের
নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর
পরে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর পোষ্যপুত্র
মহারাজা রামনাথ রায় ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটির
নির্মাণ কাজ শেষ করেন। শুরুতে মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা
ছিলো ৭০ ফুট। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটি ভূমিকম্পের
কবলে পড়লে এর চূড়াগুলো ভেঙে যায়। মহারাজা
গিরিজানাথ মন্দিরের ব্যাপক সংস্কার করলেও
মন্দিরের চূড়াগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।[১]
মন্দিরের বাইরের দেয়াল জুড়ে পোড়ামাটির ফলকে
লেখা রয়েছে রামায়ণ , মহাভারত এবং বিভিন্ন
পৌরাণিক কাহিনী। পুরো মন্দিরে প্রায় ১৫,০০০-এর
মতো টেরাকোটা টালি রয়েছে। [২] উপরের দিকে তিন
ধাপে উঠে গেছে মন্দিরটি। মন্দিরের চারদিকের
সবগুলো খিলান দিয়েই ভেতরের দেবমূর্তি দেখা যায়।
মন্দির প্রাঙ্গণ আয়তাকার হলেও, পাথরের ভিত্তির
উপরে দাঁড়ানো ৫০ফুট উচ্চতার মন্দিরটি বর্গাকার।
নিচতলার সব প্রবেশপথে বহু খাঁজযুক্ত খিলান রয়েছে।
দুটো ইটের স্তম্ভ দিয়ে খিলানগুলো আলাদা করা
হয়েছে, স্তম্ভ দুটো খুবই সুন্দর এবং সমৃদ্ধ অলংকরণযুক্ত।
মন্দিরের পশ্চিম দিকের দ্বিতীয় বারান্দা থেকে
সিঁড়ি উপরের দিকে উঠে গেছে। মন্দিরের নিচতলায়
২১টি এবং দ্বিতীয় তলায় ২৭টি দরজা-খিলান রয়েছে,
তবে তৃতীয় তলায় রয়েছে মাত্র ৩টি করে।




দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হল হিন্দু দেবী দুর্গা র পূজাকে
কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি উৎসব। দুর্গাপূজা সমগ্র
হিন্দুসমাজেই প্রচলিত। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজে
এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। আশ্বিন
বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা করা হয়। আশ্বিন
মাসের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র
মাসের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে পরিচিত।
শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বেশি। বাসন্তী
দুর্গাপূজা মূলত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
দুর্গাপূজা ভারত , বাংলাদেশ ও নেপাল সহ ভারতীয়
উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে
থাকে। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয়
উৎসব হওয়ার দরুন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও
ত্রিপুরা রাজ্যে দুর্গাপূজা বিশেষ জাঁকজমকের সঙ্গে
পালিত হয়। এমনকি ভারতের অসম , বিহার ,
ঝাড়খণ্ড , মণিপুর এবং ওড়িশা রাজ্যেও দুর্গাপূজা
মহাসমারোহে পালিত হয়ে থাকে। ভারতের অন্যান্য
রাজ্যে প্রবাসী বাঙালি ও স্থানীয় জনসাধারণ নিজ
নিজ প্রথামাফিক শারদীয়া দুর্গাপূজা ও নবরাত্রি
উৎসব পালন করে। এমনকি পাশ্চাত্য দেশগুলিতে
কর্মসূত্রে বসবাসরত বাঙালিরাও দুর্গাপূজা পালন করে
থাকেন। ২০০৬ সালে গ্রেট ব্রিটেনের রাজধানী
লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গ্রেট হলে "ভয়েসেস
অফ বেঙ্গল" মরসুম নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর
অঙ্গ হিসেবে স্থানীয় বাঙালি অভিবাসীরা ও
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এক বিরাট দুর্গাপূজার আয়োজন
করেছিলেন। [১]
সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম
দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি
দিন যথাক্রমে "দুর্গাষষ্ঠী", "মহাসপ্তমী", "মহাষ্টমী",
"মহানবমী" ও "বিজয়াদশমী" নামে পরিচিত। আশ্বিন
মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় "দেবীপক্ষ"।
দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নাম মহালয়া ; এই
দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি
শ্রদ্ধানিবেদন করে। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল
কোজাগরী পূর্ণিমা। এই দিন হিন্দু দেবী লক্ষ্মী র পূজা
করা হয়। কোথাও কোথাও পনেরো দিন ধরে দুর্গাপূজা
পালিত হয়। সেক্ষেত্রে মহালয়ার আগের নবমী
তিথিতে পূজা শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর শহরের
মৃন্ময়ী মন্দির এবং অনেক পরিবারে এই রীতি প্রচলিত
আছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতে মহাসপ্তমী থেকে
বিজয়াদশমী পর্যন্ত (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে
মহাসপ্তমী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত) চার
দিন সরকারি ছুটি থাকে। বাংলাদেশে
বিজয়াদশমীতে সর্বসাধারণের জন্য এক দিন এবং হিন্দু
ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৩ দিন সরকারি ছুটি থাকে।
পারিবারিক স্তরে দুর্গাপূজা প্রধানত ধনী
পরিবারগুলিতেই আয়োজিত হয়। কলকাতা শহরের পুরনো
ধনী পরিবারগুলির দুর্গাপূজা "বনেদি বাড়ির পূজা"
নামে পরিচিত। পারিবারিক দুর্গাপূজাগুলিতে
শাস্ত্রাচার পালনের উপরেই বেশি জোর দেওয়া হয়।
পূজা উপলক্ষে বাড়িতে আত্মীয়-সমাগম হয়ে থাকে।
অন্যদিকে আঞ্চলিক স্তরে এক একটি অঞ্চলের
বাসিন্দারা যৌথভাবে যে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন
তা বারোয়ারি পূজা বা সর্বজনীন পূজা নামে
পরিচিত। ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সময়
সর্বজনীন পূজা শুরু হয়। মুলত দেবী দুর্গাকে মাথায়
রেখেই দেশমাতা বা ভারতমাতা বা মাতৃভূমির
জাতীয়তাবাদী ধারনা বিপ্লবের আকার নেয়। দেবী
দুর্গার ভাবনা থেকেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে
মাতরম গানটি রচনা করেন যা ভারতের স্বাধীনতা-
আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র। সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ
বিল্পবী ও জাতীয়তাবাদী নেতারা বিভিন্ন সর্বজনীন
পূজার সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। এখন সর্বজনীন পূজায় "থিম"
বা নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক মণ্ডপ, প্রতিমা ও
আলোকসজ্জার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। থিমগুলির
শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে
"শারদ সম্মান" নামে বিশেষ পুরস্কারও দেওয়া হয়।
এছাড়া বেলুড় মঠ সহ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন
শাখাকেন্দ্র এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের বিভিন্ন
কেন্দ্রে সন্ন্যাসীরা দুর্গাপূজার আয়োজন করেন।

মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬

রাফায়েল পর্যবেক্ষণে ফ্রান্স যাচ্ছে বায়ু সেনার প্রতিনিধি দল

বেঙ্গালুরু: মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট রাফায়েল
যুদ্ধ বিমানের তৈরির কাজ দেখতে শীঘ্রই ফ্রান্স
যাচ্ছেন ভারতীয় বায়ু সেনার একটি প্রতিনিধি দল৷
জানা গিয়েছে, ফ্রান্সের ড্যাসল্ট কোম্পানি, যাদের
সঙ্গে ষাট হাজার কোটি টাকায় ৩৬টি রাফায়েল
সামরিক বিমান তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেখানে গিয়ে এই কাজ পর্যবেক্ষণ
করবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা৷ সূত্রের
খবর,বেঙ্গালুরুর এয়ারক্রাফট অ্যান্ড সিস্টেম টেস্টিং
এস্টাব্লিশমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে বায়ুসেনার ভাইস
মার্শাল সন্দীপ সিংয়ের নেতৃত্বে গঠিত হবে এই
প্রতিনিধি দল৷ সন্দীপ সিং জানিয়েছেন, প্রতিনিধি
দলে থাকতে চলেছেন সামরিক বিমানচালক, ইঞ্জিনিয়র
ও এয়ারক্রিউয়ের সদস্যরা৷

সীমান্তে দেড় শ গজের মধ্যে বেড়া দেবে ভারত

সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে দেড় শ গজের
মধ্যে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রস্তাবে
সম্মত হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
(বিজিবি)। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে
অনুষ্ঠিত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর
৪৩তম সম্মেলনে ভারতের পক্ষে এ সহযোগিতা
চায় বিএসএফ।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যাবতীয় সীমান্ত সমস্যা
নিয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তে চোরাচালান,
তা রুখতে গুলি চালনা, সেই নিয়ে বিতর্ক এই দুই
দেশের নিত্যসীমান্ত সমস্যা। সীমান্ত অপরাধ ও
হত্যা কীভাবে কমানো যায়, প্রতি বৈঠকে
সেটাই থাকে মূল বিষয়। এবারের বৈঠকে
সীমান্তে ‘সিঙ্গেল রো ফেন্স’ বসানো নিয়ে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্য রেখা
থেকে ১৫০ গজের মধ্যে যেকোনো স্থাপনা
তৈরি নিষিদ্ধ। কিন্তু বিএসএফ সেই সুযোগ
চেয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিজের
দিকে ১৫০ গজের মধ্যে এক স্তরের কাঁটাতারের
বেড়া (সিঙ্গেল ফেন্সিং) দেবে বিএসএফ।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের
বেড়া ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে
অবস্থানকারী ভারতীয় জমিতে থাকা মোট ২৫০
গ্রামের বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য এই এক
স্তরের কাঁটাতারের বেড়া লাগাতে ভারত
আগ্রহী। সে জন্য এই বৈঠকে বিজিবির
সহযোগিতা ভারতের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়।
দুদিনের বৈঠক শেষে আলোচিত বিষয়-সম্পর্কিত
নথি সইয়ের পর গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ
সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মা
বলেন, ‘ওই গ্রামবাসীর স্বার্থ রক্ষা এবং
সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে আমরা এই এক স্তরের
কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর সিদ্ধান্ত
নিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার ও বিজিবি এই
কাজের অনুমতি দিয়েছে।’
আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে সাধারণত দেড় শ
গজ দূরে ভারতীয় জমিতে কাঁটাতারের বেড়া
রয়েছে। এই মধ্যবর্তী অংশেই জায়গায় জায়গায়
মোট আড়াই শ গ্রামের অবস্থান। নতুন বেড়া এই
গ্রামগুলো ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে
তোলার কথা। কে কে শর্মা জানান, এই
গ্রামগুলোর অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ এ
প্রসঙ্গে বলেন, ‘বেড়া তোলার কাজের সময়
আমাদের দিক থেকে কেউ যাতে কোনো বাধা
না দেয় সেটা নিশ্চিত করা হবে। বিষয়টি
আমরা মানবিকতার দৃষ্টিতে দেখছি। দুই দেশের
এই সুসম্পর্ক নজিরবিহীন। পৃথিবীর কোথাও এই
দৃষ্টান্ত নেই।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার ৪০৯৬
কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অধিকাংশ
স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে
নয়াদিল্লি। কিন্তু বেশ কিছু এলাকায়, বিশেষ
করে পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে
ঘন জনবসতি থাকায় বেড়া দিতে পারেনি
ভারত। এ জন্য দেশটি দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্তের
শূন্য রেখার কাছে বেড়া দেওয়ার সুযোগ দিতে
বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে
আসছিল।
এদিকে ভারতীয় জঙ্গিদের তৎপরতা কমাতেও
বিজিবির পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছে ভারত।
বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ
আহমেদ পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে
বলেছেন, বাংলাদেশ তার মাটিতে কোনো
ধরনের জঙ্গি কাজকর্ম হতে দেবে না।
উলফা বা ওই জাতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি
সংগঠনের তৎপরতা না থাকলেও মিজোরাম,
মণিপুর, নাগাল্যান্ডের জঙ্গি গোষ্ঠীদের কেউ
কেউ এখনো বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায়
সক্রিয়। তাদের প্রধান কাজ মানুষ অপহরণ করে
মোটা মুক্তিপণ আদায় করা। এই উপদ্রব বন্ধ
করতেই বিজিবির সক্রিয় সমর্থন চায় বিএসএফ।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দুই বাহিনীর প্রধান
জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে
তাদের আলোচনা হয়েছে। একাধিক সমস্যার
সমাধান তাঁরা করতে পেরেছেন। এই বৈঠকে
ঠিক হয়েছে বিজিবির জওয়ানদের জন্য
বিএসএফ কমান্ডো প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত
করবে। দুই বাহিনীর পরবর্তী বৈঠক বসবে
ঢাকায়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।

জিহাদি মুছলমানদের মিথ্যাচারের জবাবঃ

জিহাদি মুছলমানদের মিথ্যাচারের জবাবঃ
শ্রী রাধা কি আদৌ শ্রী কৃষ্ণের মামী ছিলো ?
মূল রচনা-কৃষ্ণচরিত্র-দ্বিতীয় খণ্ড /দশম
পরিচ্ছেদ,ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মূল রচনার ভাবার্থ কে অপরিবর্তিত রেখে,
উক্ত পোস্টে আরো নতুন কিছু তথ্য
যোগ করে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে মাত্র,
যাতে পাঠকরা অল্প সময়ে রচনাটি পড়তে
পারে ও শ্রীরাধার সম্পর্কে আরো স্পস্ট
ভাবে বিশ্লেষণটিকে বুঝতে পারে।
সম্পাদক- সমীর কুমার মন্ডল
উপযুক্ত প্রমাণে এটাই প্রমাণিত হয় শ্রী
কৃষ্ণের জীবনী তে শ্রী রাধা নামে
কোনো নারীর সাথে সম্পর্ক ছিল না।
মামির সম্পর্ক তো দূরে থাক, রাধা নামে
কোনো গোপী শ্রী কৃষ্ণের সমগ্র
জীবনী তে ছিলো না। এই রাধা উৎপত্তি
এবং তার সাথে মামির সম্পর্ক ও অবৈধ্য সম্পর্ক
সৃষ্টিকার হলেন পূর্বের কিছু “রসময় সাহিত্যিক
চরিত্রের বৈষ্ণব মানুষ ও তাদের তৈরী কিছু
কাব্য” ।
নিচের অংশ গুলি- বঙ্কিমচন্দ্রের “শ্রী
কৃষ্ণচরিত্র” গ্রন্থের লেখকের ভাবদৃষ্টি
অনুসারে শ্রী রাধা ব্যাখ্য সংগ্রহ করে তুলে
ধরা হল.
ভাগবতের এই “রাসপঞ্চাধ্যয়ের” মধ্যে
‘রাধা’ নাম কোথাও পাওয়া যায় না ।কিন্তু
বৈষ্ণবদের অস্থিমজ্জার ভিতর রাধা নাম প্রবিষ্ট।
তাঁহারা টীকাটিপ্পনীর ভিতর পুনঃ পুনঃ রাধাপ্রসঙ্গ
উত্থাপিত করেছেন , কিন্তু মূলে কোথাও
রাধার নাম নাই। গোপীদিগের
অনুরাগাধিক্যজনিত ঈর্ষার প্রমাণ স্বরূপ কবি
লিখিয়াছেন যে, তাহারা পদচিহ্ন দেখিয়া অনুমান
করিয়াছিল যে, কোন একজন গোপীকে
লইয়া কৃষ্ণ বিজনে প্রবেশ করিয়াছিলেন।
কিন্তু তাহাও গোপীদিগের ঈর্ষাজনিত
ভ্রমমাত্র। শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্হিত হইলেন এই
কথাই আছে, কাহাকেও লইয়া অন্তর্হিত
হইলেন, এমন কথা নাই এবং রাধার নামগন্ধও নাই।
“রাসপঞ্চাধ্যায়ে” কেন, সমস্ত ভাগবতে
কোথাও রাধার নাম নাই । ভাগবতে কেন,
বিষ্ণুপুরাণে, হরিবংশে বা মহাভারতে কোথাও
রাধার নাম নাই। অথচ এখনকার কৃষ্ণ উপাসনার
প্রধান অঙ্গ রাধা। রাধা ভিন্ন এখন কৃষ্ণনাম নাই।
রাধা ভিন্ন এখন কৃষ্ণের মন্দির নাই বা মূর্তি নাই।
বৈষ্ণবদিগের অনেক রচনায় কৃষ্ণের
অপেক্ষাও রাধা প্রাধান্যলাভ করিয়াছেন যদিও
মহাভারতে, হরিবংশে, বিষ্ণুপুরাণে বা ভাগবতে
‘রাধা’ নাই। উপনিষদ সকলের মধ্যে একখানির
নাম গোপালতাপনী । কৃষ্ণের গোপমূর্তির
উপাসনা ইহার বিষয়। উহার রচনা দেখিয়া বোধ হয়
যে, অধিকাংশ উপনিষদ্ অপেক্ষা উহা অনেক
আধুনিক ও নবীন । ইহাতে কৃষ্ণ যে
গোপগোপীপরিবৃত তাহা বলা হইয়াছে। কিন্তু
ইহাতে গোপগোপীর যে অর্থ করা
হইয়াছে, তাহা প্রচলিত অর্থ হইতে ভিন্ন।
গোপী অর্থে “অবিদ্যা কলা” । টীকাকার
বলেন,- “গোপায়ন্তীতি গোপ্যঃ
পালনশক্তয়ঃ।” আর গোপীজনবল্লভ
অর্থে “গোপীনাং পালনশক্তীনাং জনঃ সমূহঃ
তদ্বাচ্যা অবিদ্যাঃ কলাশ্চ তাসাং বল্লভঃ স্বামী
প্রেরক ঈশ্বরঃ।” উপনিষদে এইরূপ
গোপীর অর্থ আছে। কিন্তু রাসলীলার
কোন কথাই এখনে নাই । রাধার নামমাত্র নাই।
এক জন প্রধানা গোপীর কথা কাছে, কিন্তু
তিনি রাধা নহেন, তাঁহার নাম গান্ধর্বী । তবে এ
‘রাধা’ আসিলেন কোথা হইতে?
রাধাকে প্রথমে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে
দেখিতে পাই । উইল্সন্ সাহেবর মতে ইহা
পুরাণগণের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ বলিয়াই বোধ
হয়। ইহার রচনাপ্রণালী আজিকালিকার
ভট্টাচার্যদিগের রচনার মত। ইহাতে ষষ্ঠী
মনসারও কথা আছে। আদিম ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ
বিলোপপ্রাপ্ত হইয়াছে। যাহা এখন আছে,
তাহাতে এক নূতন দেবতত্ত্ব সংস্থাপিত
হইয়াছে। পূর্বাবধিতে প্রসিদ্ধ যে, কৃষ্ণ
বিষ্ণুর অবতার কিন্তু এখানে পুরানকার বলেন,
কৃষ্ণ বিষ্ণুর অবতার হওয়া দূরে থাকুক, কৃষ্ণই
বিষ্ণুকে সৃষ্টি করিয়াছেন । বিষ্ণু থাকেন
বৈকুণ্ঠে, কৃষ্ণ থাকেন গোলোকে
রাসমণ্ডলে,—বৈকুণ্ঠ তাহার অনেক নীচে।
ইনি কেবল বিষ্ণুকে নহে, ব্রহ্মা, রুদ্র,
লক্ষ্মী, দুর্গা প্রভৃতি সমস্ত দেবদেবী
এবং জীবগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন। ইঁহার
বাসস্থান গোলকধামে, বলিয়াছি। তথায় গো,
গোপ ও গোপীগণ বাস করে। তাহারা
দেবদেবীর উপর। যে গুলি সবটায় মিথ্যা ছাড়া
আর কিছু না। সেই গোলোকধামের
অধিষ্ঠাত্রী কৃষ্ণবিলাসিনী দেবীই রাধা।
রাধার আগে রাসমণ্ডল, রাসমণ্ডলে ইনি
রাধাকে সৃষ্টি করেন। রাসের রা, এবং ধাতুর ধা,
ইহাতে রাধা নাম নিষ্পন্ন করিয়াছেন। সেই
গোপগোপীর বাসস্থান রাধাধিষ্ঠিত
গোলোকধাম পূর্বক বিদিগের বর্ণিত
বৃন্দাবনের বজনিশ নকল। এখনকার কৃষ্ণযাত্রায়
যেমন চন্দ্রাবলী নামে রাধার
প্রতিযোগিনী গোপী আছে,
গোলকধামেও সেইরূপ বিরজা নাম্নী রাধার
প্রতিযোগিনী গোপী ছিল। মানভঞ্জন
যাত্রায় যেমন যাত্রাওয়ালারা কৃষ্ণকে
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে লইয়া যায়, ইনিও তেমনি
কৃষ্ণকে গোলোকধামে বিরজার কুঞ্জে
লইয়া গিয়াছেন। তাহাতে যাত্রার রাধিকার যেমন
ঈর্ষা ও কোপ উপস্থিত হয়, ব্রহ্মবৈবর্তের
রাধিকারও সেইরূপ ঈর্ষা ও কোপ উপস্থিত
হইয়াছিল। তাহাতে আর একটা মহা গোলযোগ
ঘটিয়া যায়। রাধিকা কৃষ্ণকে বিরজার মন্দিরে
ধরিবার জন্য রথে চড়িয়া বিরজার মন্দিরে গিয়া
উপস্থিত। সেখানে বিরজার দ্বারবান্ ছিলেন
শ্রীদামা বা শ্রীদাম। শ্রীদামা রাধিকাকে দ্বার
ছাড়িয়া দিল না। এ দিকে রাধিকার ভয়ে বিরজা গলিয়া
জল হইয়া নদীরূপ ধারণ করিলেন। শ্রীকৃষ্ণ
তাহাতে দুঃখিত হইয়া তাঁহাকে পুনর্জীবন এবং
পূর্ব রূপ প্রদান করিলেন। বিরজা
গোলোকনাথের সহিত অবিরত আনন্দানুভব
করিতে লাগিল। ক্রমশঃ তাহার সাতটি পুত্র জন্মিল।
কিন্তু পুত্রগণ আনন্দানুভবের বিঘ্ন, এ জন্য
মাতা তাহাদিগকে অভিশপ্ত করিলেন, তাঁহারা
অনেক ভর্ৎসনা করিলেন, তাঁহারা সাত সমুদ্র
হইয়া রহিলেন। এ দিকে রাধা, কৃষ্ণবিরজা-
বৃত্তান্ত জানিতে পারিয়া, কৃষ্ণকে অনেক
ভর্ৎসনা করিলেন, এবং অভিশাপ প্রদান
করিলেন, যে তুমি গিয়া পৃথিবীতে বাস কর। এ
দিকে কৃষ্ণকিঙ্কর শ্রীদামা রাধার এই
দুর্ব্যবহারে অতিশয় ক্রুদ্ধ হইয়া তাঁহাকে
ভর্ৎসনা করিলেন। শুনিয়া রাধা শ্রীদামাকে
তিরস্কার করিয়া শাপ দিলেন, তুমি গিয়া অসূর হইয়া
জন্মগ্রহণ কর। শ্রীদামাও রাধাকে শাপ
দিলেন, তুমিও গিয়া পৃথিবীতে মানুষী হইয়া
পরপত্নী এবং কলঙ্কিনী হইয়া খ্যাত হইবে।
শেষ দুই জনেই কৃষ্ণের নিকট আসিয়া কাঁদিয়া
পড়িলেন। শ্রীদামাকে কৃষ্ণ বর দিয়া বলিলেন
যে, তুমি অসূরেশ্বর হইবে, যুদ্ধে
তোমাকে কেহ পরাভব করিতে পারিবে না।
শেষে শঙ্করশূলস্পর্শে মুক্ত হইবে।
রাধাকেও আশ্বাসিত করিয়া বলিলেন, ‘তুমি যাও;
আমিও যাইতেছি।’ শেষে পৃথিবীর ভারাবতরণ
জন্য, তিনি পৃথিবীতে আসিয়া অবতীর্ণ
হইলেন।
রাসে সম্ভূয় গোলোকে, সা দধাব হরেঃ
পুরঃ।
তেন রাধা সমাখ্যাতা পুরাবিদ্ভির্দ্বিজোত্তম ||-
ব্রহ্মখণ্ডে ৫ অধ্যায়ঃ।
কিন্তু আবার স্থানান্তরে,-
রাকারো দানবাচকঃ।
ধা নির্বাণঞ্চ তদ্দাত্রী তেন রাধা প্রকির্তিতা
|| -শ্রীকৃষ্ণজন্মখণ্ডে ২৩ অধ্যায়ঃ।
এ সকল কথা নূতন হইলেও, এবং
সর্বশেষে প্রচারিত হইলেও এই ব্রহ্মবৈবর্ত
পুরাণ বাঙ্গালার বৈষ্ণবধর্মের উপর অতিশয়
আধিপত্য স্থাপন করিয়াছে। জয়দেবাদি
বাঙ্গালী বৈষ্ণবকবিগণ, বাঙ্গালার জাতীয়
সঙ্গীত, বাঙ্গালার যাত্রা মহোৎসবাদির মূল
ব্রহ্মবৈবর্তে। কিন্তু আবার স্থানান্তরে
ব্রহ্মবৈবর্তের মতে তিনি বিধিবিধানানুসারে
কৃষ্ণের বিবাহিতা পত্নী । সেই বিবাহবৃত্তান্তটি
সবিস্তারে বলিতেছি, বলিবার আগে
গীতগোবিন্দের প্রথম কবিতাটা পাঠকের
স্মরণ করিয়া দিই।
“মেঘৈর্মেদুরমম্বরং বনভুবঃ শ্যামাস্তমালদ্রুমৈ—
র্নক্তং ভীরুরয়ং ত্বমেব তদিমং রাধে গৃহং
প্রাপয়।
ইত্থং নন্দনিদেশতশ্চলিতয়োঃ
প্রত্যধ্বকুঞ্জদ্রুমং
রাধামাধবয়োর্জয়ন্তি যমুনাকূলে রহঃকেলয়ঃ ||
অর্থ। হে রাধে! আকাশ মেঘে স্নিগ্ধ
হইয়াছে, তমাল দ্রুম সকলে বনভূমি অন্ধকার
হইয়াছে, অতএব তুমিই ইহাকে গৃহে লইয়া যাও,
নন্দ এইরূপ আদেশ করায়, পথিস্থ
কুঞ্জদ্রুমাভিমুখে চলিত রাধামাধবের
যমুনাকূলে বিজনকেলি সকলের জয় হউক।
এ কথার অর্থ কি? টীকাকার কি অনুবাদকার
কেহই বিশদ করিয়া বুঝাইতে পারেন না। একজন
অনুবাদকার বলিয়াছেন, “গীতগোবিন্দের
প্রথম শ্লোকটি কিছু অস্পষ্ট; কবি নায়ক-
নায়িকার কোন্ অবস্থা মনে করিয়া লিখিয়াছেন,
ঠিক বলা যায় না। টীকাকারের মত, ইহা
রাধিকাসখীর উক্তি। তাহাতে ভাব এক প্রকার
মধুর হয় বটে, কিন্তু শব্দার্থের কিছু অসঙ্গতি
ঘটে।” বস্তুতঃ ইহা রাধিকাসখীর উক্তি নহে;
জয়দেব গোস্বামী ব্রহ্মবৈবর্ত-লিখিত এই
বিবাহের সূচনা স্মরণ করিয়াই এ শ্লোকটি রচনা
করিয়াছেন। এক্ষণে আমি (বঙ্কিমচন্দ্র) ঠিক
এই কথাই ব্রহ্মবৈবর্ত হইতে উদ্ধৃত করিতেছি;
তবে বক্তব্য এই যে, রাধা
শ্রীদামশাপানুসারে শ্রীকৃষ্ণের কয় বৎসর
আগে পৃথিবীতে আসিতে বাধ্য হইয়াছিলেন
বলিয়া, রাধিকা কৃষ্ণের অপেক্ষা অনেক বড়
ছিলেন। তিনি যখন যুবতী, শ্রীকৃষ্ণ তখন
শিশু।
“একদা কৃষ্ণসহিতো নন্দো বৃন্দাবনং যযৌ।
তত্রোপবনভাণ্ডীরে চারয়ামাস গোকুলম্
|| ১ ||
সরঃসুস্বাদুতোয়ঞ্চ পায়য়ামাস তং পপৌ।
উবাস বটমূলে চ বালং কৃত্বা স্ববক্ষসি || ২ ||
এতস্মিন্নন্তরে কৃষ্ণো মায়াবালকবিগ্রহঃ।
চকার মায়য়াকস্মান্মেঘাচ্ছন্নং নভো মুনে ||
৩ ||
মেঘাবৃতং নভো দৃষ্টা শ্যামলং কাননান্তরম্।
ঝঞ্ঝাবাতং মেঘশব্দং বজ্রশব্দঞ্চ দারুণম্ || ৪
||
বৃষ্টিধারামতিস্থূলাং কম্পমানাংশ্চ পাদপান্।
দৃষ্ট্বৈং পতিতস্কন্ধান্ নন্দো ভয়মবাপ হ || ৫
||
কথং যাস্যামি গোবৎসং বিহায় স্বাশ্রমং প্রতি।
গৃহং যদি ন যাস্যামি ভবিতা বালকস্য কিম্ || ৬ ||
এবং নন্দে প্রবদতি রুরোদ শ্রীহরিস্তদা।
মায়াভিয়া ভয়েভ্যশ্চ পিতুঃ কণ্ঠং দধার সঃ || ৭ ||
এতস্মিন্নন্তরে রাধা জগাম কৃষ্ণসন্নিধিম্।”
--- ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণম্, শ্রীকৃষ্ণজন্মখণ্ডে,
১৫ অধ্যায়ঃ।
অর্থ। “একদা কৃষ্ণসহিত নন্দ বৃন্দাবনে
গিয়াছিলেন। তথাকার ভাণ্ডীরবনে
গোগণকে চরাইতেছিলেন। সরোবরে
স্বাদু জল তাহাদিগকে পান করাইলেন, এবং পান
করিলেন। এবং বালককে বক্ষে লইয়া
বটমূলে বসিলেন। হে মুনে! তার পর
মায়াতে শিশুশরীরধারণকারী কৃষ্ণ অকস্মাৎ
মায়ার দ্বারা আকাশ মেঘাচ্ছন্ন করিলেন, আকাশ
মেঘাচ্ছন্ন এবং কাননান্তর শ্যামল; ঝঞ্ঝাবাত,
মেঘশব্দ, দারুণ বজ্রশব্দ, অতিস্থূল বৃষ্টিধারা,
এবং বৃক্ষসকল কম্পমান হইয়া পতিতস্কন্ধ
হইতেছে, দেখিয়া নন্দ ভয় পাইলেন।
‘গোবৎস ছাড়িয়া কিরূপেই বা আপনার আশ্রমে
যাই, যদি গৃহে না যাই, তবে এই বালকেরই বা কি
হইবে,’ নন্দ এইরূপ বলিতেছিলেন, শ্রীহরি
তখন কাঁদিতে লাগিলেন; মায়াভয়ে ভীতযুক্ত
হইয়া বাপের কণ্ঠ ধারণ করিলেন। এই সময়ে
রাধা কৃষ্ণের নিকট আসিয়া উপস্থিত হইলেন।”
রাধার অপূর্ব লাবণ্য দেখিয়া নন্দ বিস্মিত
হইলেন, তিনি রাধাকে বলিলেন, “আমি
গর্গমুখে জানিয়াছি, তুমি পদ্মারও অধিক হরির
প্রিয়া; আর ইনি পরম নির্গুণ অচ্যুত মহাবিষ্ণু; তথাপি
আমি মানব, বিষ্ণুমায়ায় মোহিত আছি। হে
ভদ্রে! তোমার প্রাণনাথকে গ্রহণ কর; যথায়
সুখী হও, যাও। পশ্চাৎ মনোরথ পূর্ণ করিয়া
আমার পুত্র আমাকে দিও।”
এই বলিয়া নন্দ রাধাকে কৃষ্ণসমর্পণ করিলেন।
রাধাও কৃষ্ণকে কোলে করিয়া লইয়া
গেলেন। দূরে গেলে রাধা রাসমণ্ডল
স্মরণ করিলেন, তখন মনোহর বিহারভূমি সৃষ্ট
হইল। কৃষ্ণ সেইখানে নীত হইলে
কিশোরমূর্তি ধারণ করিলেন। তিনি রাধাকে
বলিলেন, “যদি গোলোকের কথা স্মরণ
হয়, তবে যাহা স্বীকার করিয়াছি, তাহা পূর্ণ
করিব।” তাঁহারা এরূপ প্রেমালাপে নিযুক্ত
ছিলেন, এমন সময়ে ব্রহ্মা সেইখানে
উপস্থিত হইলেন। তিনি রাধাকে অনেক
স্তবস্তুতি করিলেন। পরিশেষে নিজে
কন্যাকর্তা হইয়া, যথাবিহিত বেদবিধি অনুসারে
রাধিকাকে কৃষ্ণে সম্প্রদান করিলেন।
তাঁহাদিগকে বিবাহবন্ধনে বদ্ধ করিয়া তিনি
অন্তর্হিত হইলেন। রায়াণের সঙ্গে রাধিকার
যথাশাস্ত্র বিবাহ হইয়াছিল কি না, যদি হইয়া থাকে,
তবে পূর্বে কি পরে হইয়াছিল, তাহা
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে পাইলাম না অথচ পুরাণকারের
দাবী করে রাধা রায়াণের স্ত্রী।
রাধাকৃষ্ণের বিবাহের পর বিহারবর্ণন। বলা বাহুল্য
যে, ব্রহ্মবৈবর্তের রাসলীলাও ঐরূপ,
যেগুলি সবটাই বানানো।
· উপরক্ত মন্তব্য তথা “রাধা যখন যুবতী,
শ্রীকৃষ্ণ তখন শিশু” ইহা মিথ্যা ছাড়া আর কিছু না।
কারণ হিসাব অনুসারে শ্রী কৃষ্ণজন্মাষ্টমী
এর ১৫ দিন পর শুক্লপক্ষে রাধাজন্মাষ্টমী
আসে। তাহলে এখনে রাধার বয়স < কৃষ্ণর
বয়স। কিন্তু পুরাণকার বলছে উল্টোটা। তাই
ব্রহ্মবৈবর্তকার পুরাণকার যে মিথ্যা এতে
কোনো সন্দেহ নাই।
যাহা হউক, পাঠক দেখিলেন যে,
ব্রহ্মবৈবর্তকার সম্পূর্ণ নূতন বৈষ্ণবধর্ম সৃষ্ট
করিয়াছেন। সে বৈষ্ণবধর্মের নামগন্ধমাত্র
বিষ্ণু বা ভাগবত বা অন্য পুরাণে নাই। রাধাই এই
নূতন বৈষ্ণবধর্মের কেন্দ্রস্বরূপ। জয়দেব
কবি, গীতগোবিন্দ কাব্যে এই নূতন
বৈষ্ণবধর্মাবলম্বন করিয়াই গোবিন্দগীতি রচনা
করিয়াছেন। তাঁহার দৃষ্টান্তানুসরণে বিদ্যাপতি
চণ্ডীদাস প্রভৃতি বাঙ্গালার বৈষ্ণবগণ
কৃষ্ণসঙ্গীত রচনা করিয়াছেন। বলিতে
গেলে, সকল কবি, সকল ঋষি, সকল পুরাণ,
সকল শাস্ত্রের অপেক্ষা ব্রহ্মবৈবর্তকারই
বাঙ্গালীর জীবনের উপর অধিকতর
আধিপত্য বিস্তার করিয়াছেন।
· “শ্রী কৃষ্ণ কীর্ত্তনে” রচনা করে আবার
চণ্ডীদাস এই আগুনে ঘি ঢ়েলেছেন।
যদিও চণ্ডীদাসের লিখনী তে বহু বহু ভুল
ও বানানো মন্তব্য পাওয়া যাই। আর এই
মন্তব্যগুলো ভুল ছাড়া আর কিছু না। উদাহরণ
স্বরূপ দেখুন চণ্ডীদাসের লিখা “শ্রী
কৃষ্ণ কীর্ত্তনে” ২ টি মন্তব্য।–
· শ্রীকৃষ্ণ কীর্ত্তন (চণ্ডীদাস বিরচিত):
বৃন্দাবন খণ্ড পৃষ্ঠা-৮৯
“রাধে, তোমার এই নব যৌবনের সুষমা
অহরহ আমার মনে জাগিতেছে। তাহাতে
আবার তোমার সহিত রমণেচ্ছা প্রবল হইয়া
আমার হৃদয়কে অতিমাত্রায় কর্ষণ করিতেছে”
· মাউলানীর যৌবনে কাহ্নের মন।
বিধুমুখে বোলেঁ কাহ্নাঞিঁ মধুর বচন
সম্বন্ধ না মানে কাহ্নাঞিঁ মোকে বোলেঁ
শালী।
লজ্জা দৃষ্টি হরিল ভাগিনা বনমালী
দেহ বৈরি হৈল মোকে এরুপ যৌবন।
কাহ্ন লজ্জা হরিল দেখিআঁ মোর তন
- শ্রীকৃষ্ণ কীর্ত্তনের দানখণ্ড :
রামগিরীরাগ : পৃষ্ঠা : ২০
(শব্দার্থঃ মাউলানী- মামী, কাহ্নের-
কৃষ্ণের)
দেখেছেন এই শ্রী রাধা কে শ্রী
কৃষ্ণের মামি বানিয়েছে এই চণ্ডীদাস।
এগুলো কোনোটাতে বিন্দুমাত্র সত্যতা
নাই। এগুলো কেবল রসময় লেখকের
রসময় সাহিত্য ছাড়া আর কিছু না।
তবে এই শ্রী রাধার প্রকৃত পরিচয় কি ?
এখানে শক্তিবাদের কথা মনে স্মরণ রাখিয়া
ব্রহ্মবৈবর্তকার লিখিয়াছেন যে, কৃষ্ণ রাধাকে
বলিতেছেন যে, তুমি না থাকিলে, আমি কৃষ্ণ,
এবং তুমি থাকিলে আমি শ্রীকৃষ্ণ।
বিষ্ণুপুরাণকথিত এই “শ্রী” লইয়াই তিনি
শ্রীকৃষ্ণ। বিষ্ণুপুরাণে যাহা “শ্রী”
সম্বন্ধে কথিত হইয়াছে, ব্রহ্মবৈবর্তে “রাধা”
সম্বন্ধে ঠিক তাহাই কথিত হইয়াছে। অর্থ্যাৎ
রাধা সেই “শ্রী” এর কাল্পণিক চরিত্র স্বরূপ।
রাধা সেই কৃষ্ণের নারী রূপে কল্পিত সেই
শক্তি। অর্থ্যাৎ শ্রী রাধা হল সেই শ্রী
কৃষ্ণের “শ্রী” অর্থ্যাৎ “শক্তি” যা ছাড়া কৃষ্ণ
অপূর্ণ।
এই নিয়ে শ্রী চৈতন্য চরিত্রামৃতে শ্রী
শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু বলিয়াছেন –
মহাভাবস্বরূপ শ্রীরাধাঠাকুরাণী ।
সর্বগুণখনি কৃষ্ণকান্তা-শিরোমণি ।।
অর্থাৎ, “মহাভাব-স্বরূপিনী শ্রীমতী
রাধারাণী হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের সমস্ত
গুণের আধার এবং শ্রীকৃষ্ণের শিরোমণি”
অর্থ্যাৎ শ্রী রাধা হল সেই শ্রী কৃষ্ণের
“শ্রী” অর্থ্যাৎ “শক্তি” যা ছাড়া কৃষ্ণ অপূর্ণ।
যা প্রমাণিত।
কিন্তু আদিম ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে ‘রাধাতত্ত্ব’ ছিল
কি? বোধ হয় ছিল; কিন্তু এই প্রকার নহে।
বর্তমান ব্রহ্মবৈবর্তে রাধা শব্দের ব্যুৎপত্তি
অনেক প্রকার দেওয়া হইয়াছে। তাহার দুইটি
পূর্বে ফুটনোটে উদ্ধৃত, আর একটি উদ্ধৃত
করিতেছি:—
“রেফো হি কোটিজন্মাঘং কর্মভোগং
শুভাশুভম্।
আকারো গর্ভবাসঞ্চ মৃত্যুঞ্চ
রোগমুৎসৃজেৎ || ১০৬ ||
ধকার আয়ুষো হানিমাকারো ভববন্ধনম্।
শ্রবণস্মরণোক্তিভ্যঃ প্রণশ্যতি ন সংশয়ঃ ||
১০৭ ||
রাকারো নিশ্চলাং ভক্তিং দাস্যং কৃষ্ণপদাম্বুজে।
সর্বেস্পিতং সদানন্দং সর্বসিদ্ধৌঘমীশ্বরম্ ||
১০৮ ||
ধকারঃ সহবাসঞ্চ তত্তুল্যকালমেব চ।
দদাতি সার্ষ্টিং সারূপ্যং তত্ত্বজ্ঞানং হরেঃ সমম্ ||
১০৯ ||”
ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণম্,
শ্রীকৃষ্ণজন্মখণ্ডে, ১৩ অঃ।
ইহার একটিও রাধা শব্দের প্রকৃত ব্যুৎপত্তি নয়।
রাধ্ ধাতু আরাধনার্থে, পূজার্থে। যিনি কৃষ্ণের
আরাধিকা, তিনিই রাধা বা রাধিকা। বর্তমান
ব্রহ্মবৈবর্তে এ ব্যুৎপত্তি কোথাও নাই। যিনি
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণকার ও কিছু রসময় চরিত্রের
বৈষ্ণব)এই রাধা শব্দের প্রকৃত ব্যুৎপত্তি
গোপন করিয়া কতকগুলা অবৈয়াকরণিক কল
কৌশলের দ্বারা ভ্রান্তি জন্মাইবার চেষ্টা
করিয়াছেন, এবং ভ্রান্তির প্রতিপোষণার্থ মিথ্যা
করিয়া সামবেদের দোহাই দিয়াছেন,তিনি
কখনও ‘রাধা’ শব্দের সৃষ্টিকারক নহেন। যিনি
রাধা শব্দের প্রকৃত ব্যুৎপত্তির অনুযায়িক হইয়া
রাধারূপক রচনা করেন নাই, তিনি কখনও রাধা
শব্দের সৃষ্টিকর্তা নহেন। সেই জন্য
বিবেচনা করি যে, আদিম ব্রহ্মবৈবর্তেই রাধার
প্রথম সৃষ্টি। এবং সেখানে রাধা কৃষ্ণারাধিকা
আদর্শরূপিণী “শ্রী” ছিলেন, সন্দেহ নাই।
রাধা শব্দের আর একটি অর্থ আছে—
বিশাখানক্ষত্রের# একটি নাম রাধা। কৃত্তিকা
হইতে বিশাখা চতুর্দশ নক্ষত্র। পূর্বে কৃত্তিকা
হইতে বৎসর গণনা হইত। কৃত্তিকা হইতে রাশি
গণনা করিলে বিশাখা ঠিক মাঝে পড়ে। অতএব
রাসমণ্ডলের মধ্যবর্তিনী হউন বা না হউন, রাধা
রাশিমণ্ডলের বা রাসমণ্ডলের মধ্যবর্তী
বটেন। এই ‘রাসমণ্ডলমধ্যবর্তিনী’ রাধার
সঙ্গে ‘রাসমণ্ডলে রাধার কোন সম্বন্ধ
আছে কি না, তাহা আসল ব্রহ্মবৈবর্তের
অভাবে স্থির করা অসাধ্য।
রাধাশব্দস্য ব্যুৎপত্তিঃ সামবেদ নিরূপিতা || ১৩
অঃ, ১৫৩।
রাধা বিশাখা পুষ্যে তু সিধ্যতিযৌ শ্রবিষ্ঠয়া-
অমরকোষ।
তাই, শ্রী রাধা হল সেই শ্রী কৃষ্ণের
“শ্রী” অর্থ্যাৎ “শক্তি” যা ছাড়া কৃষ্ণ অপূর্ণ।
ঠিক যেমন একজন “সন্তান” একজন “মা” ছাড়া
অপূর্ণ। শ্রী রাধা কোনো সম্পর্কের মামি
নহে।

শ্মশান দখল



প্রথমে শ্মশান দখল করা হলো, এরপর রাতারাতি বিদ্যুৎ
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ১৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসা
৬০ টি হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদ করার পায়তারা করছে
একটি হাউজিং কোম্পানি। ঘটনাটি ঢাকার সাভারের
বিরুলিয়া ইউনিয়নের মোস্তাপুর গ্রামের। অত্যন্ত
জরুরীভাবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।।
কপি ..... Niloy Chakraborty দাদা

জঙ্গি আস্তানায় ভারতীয় সেনাদের সফল অভিযানে

কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের আটারো জঙ্গি
আস্তানায় ভারতীয় সেনাদের সফল অভিযানে ৪২
পাকিস্তানি জঙ্গি নিহত।
শেয়ার করে পাকি সন্তানের দেখার সুযোগ করে দিন ।



পথভ্রষ্ট পাক বালককে রাতভর আশ্রয়, সকালে দেশে পৌঁছে দিল বিএসএফ

জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় তুমুল উত্তেজনা।
পঞ্জাব এবং রাজস্থানের আন্তর্জাতিক সীমান্তেও
তার আঁচ। কিন্তু তার মধ্যেই মানবিকতার অনন্য নজির
রাখল বিএসএফ। জলের খোঁজে পথ ভুলে পঞ্জাবে
ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পেডছিল পাক বালক। বিএসএফ-
এর হাতে ধরাও পেডছিল। কিন্তু রাতভর সুরক্ষিত
রাখার পর সযত্নে তাকে পাকিস্তানে পৌঁছে
দিয়েছেন ভারতের সীমান্তরক্ষীরা।
পঞ্জাবের দোনা তেলি মাল সীমান্ত চৌকির কাছে
রবিবার সন্ধ্যায় এক বালককে সন্দেহজনক ভাবে
ঘোরাঘুরি করতে দেখেন বিএসএফ জওয়ানরা। তাকে
হেফাজতে নেওয়া হয়। বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে
জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তার নাম মহম্মদ
তনবির। পাকিস্তানের কাসুর জেলার ধারি গ্রামে তার
বাডি।

পশ্চিম সীমান্তে চাপ বাড়াতে চায় পাকিস্তান

দিন দুয়েক আগের ঘটনা। পঞ্জাবের আন্তর্জাতিক
সীমান্তে মোতায়েন বিএসএফ জওয়ানরা হঠাত্ দেখেন
পাকিস্তানের দিকে এগিয়ে আসছে সাঁজোয়া গাডি।
মুহূর্তে সাজো-সাজো রব পেড যায় গোটা সীমান্তে।
আন্তর্জাতিক সীমান্তের মাত্র ১০০ মিটার আগে
থেমে যায় স্বয়ংক্রিয় গাডিটি। সীমান্তের ধার ঘেঁষে
কিছু দূর গিয়ে শেষে গাডিটি ফিরে যায় নিজেদের
শিবিরে।
উরি হামলা, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আবহে গাডিটি
দেখে চূডান্ত সতকর্তা জারি হয় সীমান্তে।
বিএসএফের মতে, চালকহীন ওই গাডিটিতে ক্যামেরা
লাগানো ছিল। বিএসএফের ডিজি কে কে শর্মার
বক্তব্য, ''সীমান্তে আমাদের প্রস্তুতি কতটা সম্ভবত
সেটাই মাপার জন্য পাক বাহিনীর পক্ষ থেকে ওই
গাডিটি পাঠানো হয়েছিল।'' এ ভাবেই পাকিস্তান
পশ্চিম সীমান্তেও চাপ বাডাতে চাইছে বলে ধারণা
নরেন্দ্র মোদী সরকারের শীর্ষ কর্তাদের।
ওই ঘটনার পরে কোনও ঝুঁকি নেয়নি বিএসএফ। কেন্দ্রের
কাছে আন্তর্জাতিক সীমান্তে আধাসেনা বাডানোর
দাবি জানায় তারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত
পশ্চিম সীমান্তে চার ব্রিগেড বাডতি বিএসএফ
মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় নর্থ ব্লক। গতকাল
লাদাখের পরে আজ কার্গিল ও দ্রাস এলাকার সীমান্ত
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজনাথ সিংহ। সীমান্তে সেনা প্রস্তুতি নিয়ে কথা
বলেন সেনা কর্তাদের সঙ্গে।
এ দিন অবশ্য ভোর থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জম্মু-
কাশ্মীর সীমান্ত। কূটনৈতিক ভাবে উভয় পক্ষই
সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা শুরু করলেও, তার
কোনও বাস্তব প্রতিফলন এখনও নিয়ন্ত্রণরেখায় দেখা
যাচ্ছে না। এ দিন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জম্মু-
কাশ্মীরের নওশেরা ও আখনুর সেক্টরে ভারতীয় পোস্ট
লক্ষ করে গুলি ও মর্টার ছোেড পাক সেনা। জবাব দেয়
ভারতীয় সেনাও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
কর্তাদের মতে, আগামী কিছু দিন সীমান্তে হামলা
চালিয়ে যাবে পাকিস্তান। শীত আসছে। তার আগে যত
বেশি সংখ্যক জঙ্গি অনুপ্রবেশ করাতে চাইছে পাক
সেনা।
এরই মধ্যে পঞ্জাবের অমৃতসরের কাছে ইরাবতী নদীতে
পাকিস্তানের একটি ডিঙি নৌকো উদ্ধার করেছে
বিএসএফ। আজ ভোরে ওই নৌকোটি পাকিস্তানের দিক
থেকে অমৃতসরের দিকে ভেসে আসে। জলপথে হানার
আশঙ্কা থাকায় এখন পাক নৌকো নিয়ে সতর্ক
সীমান্তরক্ষীরা। তবে এই নৌকোটিতে একটি
পাকিস্তানি পতাকা ছাডা কিছু পাওয়া যায়নি বলে
জানিয়েছেন বিএসএফের ডিআইজি আর এস
কাটারিয়া। তিনি জানান, পরে ফ্ল্যাগ মিটিং-এ পাক
রেঞ্জার্সও পাকিস্তান থেকে নৌকো ভেসে আসার
কথা মেনে নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, দু'টি
পাক নৌকো করাচি থেকে ভারতীয় জলসীমার দিকে
আসছে বলে খবর পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

পরমাণুর চেয়েও ভয়ঙ্কর অস্ত্র রয়েছে ভারতের! আতঙ্কে পাকিস্তান

কলকাতা: আর বেশি দিন নয়, যখন ভারতকে সামরিক
শক্তির দিক দিয়ে টক্কর দেওয়ার ‘দুঃসাহস’ দেখাবে না
পাকিস্তান ও চিন!
বিশ্ব-সামরিক মহলে জোর কানাঘুষো, খুব শীঘ্রই এমন এক
মহা-শক্তিশালী অস্ত্র ভারতের হাতে আসতে চলেছে,
যা পরমাণু না হলেও, পরমাণু অস্ত্রের চেয়ে কম ভয়ঙ্কর
নয়।
যে সময় পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের শত্রুতা চরমে, ঠিক
তখনই দেশের সামরিক বিজ্ঞানীদের দাবি, খুব
অল্পদিনের মধ্যেই কোনও শত্রুদেশের বিমান বা মিসাইল
ভারতের আকাশসীমায় ঢুকতেই ভয় পাবে।
কিন্তু কীসের ভিত্তিতে তাঁদের এই দাবি? ভারতের
হাতে এমন একটা অস্ত্র এসেছে, যাকে দেখা যায় না! কী
সেই অস্ত্র? শক্তির দেবীর নাম অনুযায়ী বিজ্ঞানীরা
ওই অস্ত্রের নামকরণ করেছেন –‘কালি’।
যদিও, বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় অস্ত্রটির পুরো নাম হল
কিলো অ্যাম্পায়ার লিনিয়ার ইঞ্জেক্টর। বিভিন্ন
বিদেশি সামরিক জার্নাল কালি-কে বর্তমানে অন্যতম
ভয়্ঙ্কর অস্ত্র হিসেবে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছে।
এক নজর দেখা যাক কালি-র কার্যকারিতা—
কালি-কে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, সেটি
কোনও শত্রু বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ-আকাশে
ধ্বংস করতে সক্ষম। কালি কোনও ক্ষেপণাস্ত্র নয়। এর
মধ্যে কোনও বিস্ফোরক নেই! কিন্তু, তা তার চেয়েও
ভয়ঙ্কর হতে পারে।
জানা গিয়েছে, কালি আদতে হল ডিরেক্টেড এনার্জি
উইপন (ডিইডব্লু) শ্রেণির অস্ত্র। আদতে অত্যন্ত
দ্রুতগতিতে রিলেটিভিস্টিক ইলেকট্রন বিম (আরইবি)
ছোঁড়ে কালি।
এই বিম অনেকটা লেজার বিমের মতো। যা দিয়ে অস্ত্র
তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন
ও রাশিয়ার মতো সুপার-পাওয়াররা।
তবে, বিজ্ঞানীদের মতে, লেজারের থেকেও ভয়ঙ্কর
কালি। তাঁদের মতে, লেজার রশ্মি সাধারণত, শত্রু-
মিসাইল বা বিমানে ছিদ্র করে দেয়। কিন্তু, তা করার
জন্য অত্যন্ত সুক্ষ্ম এবং নির্ভুল হতে হবে।
অন্যদিকে, কালি সাধারণত, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রন
বিম ‘ফায়ার’ করে থাকে। এক্ষেত্রে ওই ব্যাসের মধ্যে
যে কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি নিমেষে স্তব্ধ হয়ে
পড়বে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, একটি বিমান বা মিসাইল প্রতি
সেন্টিমিটারে মাত্র ৩০০ ভোল্ট ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক
পাল্স (ইএমপি) ধাক্কা সহ্য করতে পারে। কালি সেই
জায়গায় কয়েক হাজার ভোল্ট ইএমপি নিক্ষেপ করেফলত, এত বিপুল মাইক্রোওয়েভ শক্তির ধাক্কার জেরে
শত্রুপক্ষের মিসাইল ও বিমানে থাকা অন-বোর্ড
কম্পিউটার এবং অন্য সব যন্ত্র অকেজো হলে, তা
অচিরেই ভেঙে পড়বে।
এই অস্ত্রটির বিশেষত্ব হল, এই মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ
কোনওভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না। কারণ, তা ছড়ায় না। যে
গতি ওই তরঙ্গকে নিক্ষেপ করা হয়, তাতে সরাসরি
লক্ষ্যের ওপর আছড়ে পড়ে কালি।
কালি তৈরি করেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা
সংস্থা (ডিআরডিও) এবং ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ
সেন্টার (বার্ক)। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন বার্ক অধিকর্তা
আর চিদম্বরমের নেতৃত্বে প্রথম শুরু হয়েছিল এই প্রকল্প।
প্রথম অ্যাক্সিলারেটরের ক্ষমতা ছিল ২৫০ মেগাওয়াট।
পরবর্তীকালে, আরও উন্নত সংস্করণ বের হয়েছে। ক্ষমতা
বেড়েছে কালি-র। কালি ৮০, কালি ১০০, কালি ২০০,
কালি ১০০০ এখন অতীত। ২০০৪ সালে কালি ৫০০০-কে
অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বর্তমানে কালি ১০০০০ এর গবেষণা চলছে। জানা
গিয়েছে, কালি ৫০০০-এর ক্ষমতা প্রায় ৪০ গিগাওয়াট
এবং তার পালস হল ৬০ ন্যানো-সেকেন্ড। তরঙ্গের
ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাঙ্ক ৩-৫ গিগাহার্ৎজ। অর্থাৎ,
প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার এমন উচ্চক্ষমতার
মাইক্রোওয়েভ নিক্ষেপ করতে সক্ষম কালি। যাতে যে
কোনও জায়গায় ভূমিকম্পের মতো শক দেখা দিতে পারে।
তবে, কালি-র একটাই সমস্যা। তা হল, এটি অত্যন্ত ভারি
এবং একবার নিক্ষেপ করার পর দ্বিতীয়বার চার্জ নিতে
এটি সময় নেয়। জানা গিয়েছে, কালি ৫০০০-এর ওজন
প্রায় ১০ টন, কালি ১০০০০-এর ওজন প্রায় ২৬ টন।
ফলে, একে বায়ুসেনার আইএল-৭৬ এর মত ভারি মালবাহী
বিমান ছাড়া স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যয়
হয়। ঠান্ডা করতে ১২ হাজার লিটার তেল প্রয়োজন।
বিজ্ঞানীরা এই ইস্যুগুলির সমাধান করার চেষ্টা করছেন।
পাশাপাশি, তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন, কালি প্রয়োগ
করে তেজস বিমানে ‘ইএমপি শিল্ড’ বা বর্ম গড়ে তোলার,
যাতে শত্রুদেশ ভারতের বিমান বা মিসাইলে এধরনের
মাইক্রওয়েভ অস্ত্র নিক্ষেপ করলে তা যাতে প্রতিহত
হয়। একইভাবে দেশের উপগ্রহকেও সুরক্ষিত করতে
সাহায্য নেওয়া হচ্ছে কালি-র।
‘কালি’ নিয়ে ভারতের সাফল্যে রীতিমত আশঙ্কিত
পাকিস্তান। এই নিয়ে প্রতিবেশী দেশটি নিজেদের
উদ্বেগ চাপা রাখেনি। ২০১২ সালে সিয়াচেনে
তুষারধসে ১৩৫ জন পাক সেনা জওয়ান নিহত হয়েছিল।
ইসলামাবাদের দাবি, কালি-র জন্যই ওই ধস নেমেছিল।
যদিও, ভারত তা অস্বীকার করে।
সম্প্রতি, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কালি-র গবেষণার
অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করেন
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পর্রীকর। তিনি জানিয়ে দেন,
জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও তথ্য প্রকাশ করা
হবে না।

‘প্রেমে প্রত্যাখাত হয়েই’

‘প্রেমে প্রত্যাখাত হয়েই’ খাদিজাকে কুপায় ছাত্রলীগ
নেতা, আহতকে ঢাকায় প্রেরণ ॥
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রেমে প্রত্যাখাত হওয়ার
'প্রতিশোধ' নিতেই খাদিজা আক্তার নামের সিলেট
সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করা
হয়। সোমবার বিকেলে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে
প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে বদরুল আলম নামের এক শাবি
ছাত্র। বদরুল শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক।
গুরুতর আহত খাদিজাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার
মধ্যরাতে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনার পর এমসি
কলেজের শিক্ষার্থীরা হামলাকারী বদরুলকে গনপিটুনি
দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গণপিটুনিতে আহত
বদরুলকেও ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আক্রান্ত ছাত্রী খাদিজা আক্তার সিলেট সরকারি
মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
পরীক্ষা দিতে সে সোমবার এমসি কলেজে
গিয়েছিলো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট সদর উপজেলার
মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাউসা গ্রামের মাসুক মিয়ার
মেয়ে খাদিজা আক্তার নার্গিসের বাড়িতে লজিং
থাকত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অর্থনীতি বিভাগের শেষ
বর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল
আলম। সেখানে থাকাকালে মেয়েটির কাছে প্রেম
নিবেদন করে সে। নার্গিস বারবার প্রত্যাখ্যান করে।
বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর এমসি কলেজ
মসজিদের পেছনে শিক্ষার্থীদের সামনে দা দিয়ে
কোপাতে থাকে বদরুল। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন নার্গিসের
চিৎকার শুনে এগিয়ে যায়। তারা নার্গিসকে সংকটাপন্ন
অবস্থায় উদ্ধার করে এবং বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে
পুলিশে দেয়।
এ ব্যাপারে এমসি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের
বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সালেহ আহমদ বলেন, ‘কিছু
ছাত্র এসে একটি মেয়েকে কুপিয়ে দুই টুকরো করে
ফেলেছে বলে আমাদের জানায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে
হামলাকারী যুবককে জনতার কবল থেকে উদ্ধার করে।
আমরা ওই মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে
পাঠাই।’
প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান কবির বলেন, ‘একটি মেয়েকে
কোপাতে দেখে এগিয়ে যাই। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও
অন্যান্যের সহায়তায় আমরা মেয়েটিকে হাসপাতালে
নিয়ে আসি। চিকিৎকরা বলেছেন, তার রক্তের প্রয়োজন।
আমরা কিছু রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তার অবস্থা
সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।’
এদিকে এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেট-
তামাবিল সড়ক অবরোধ করে। এমসি কলেজের
শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এ ঘটনার
প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খাদিজার ওপর হামলা
হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন
পুলিশের এডিসি (উত্তর) জিদান আল মুসা। তিনি জানান,
জনতার সহায়তায় হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে।
মেয়ের চিকিৎসার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সবাই চেষ্টা
করছেন।