মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬

সীমান্তে দেড় শ গজের মধ্যে বেড়া দেবে ভারত

সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে দেড় শ গজের
মধ্যে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রস্তাবে
সম্মত হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
(বিজিবি)। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে
অনুষ্ঠিত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর
৪৩তম সম্মেলনে ভারতের পক্ষে এ সহযোগিতা
চায় বিএসএফ।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যাবতীয় সীমান্ত সমস্যা
নিয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তে চোরাচালান,
তা রুখতে গুলি চালনা, সেই নিয়ে বিতর্ক এই দুই
দেশের নিত্যসীমান্ত সমস্যা। সীমান্ত অপরাধ ও
হত্যা কীভাবে কমানো যায়, প্রতি বৈঠকে
সেটাই থাকে মূল বিষয়। এবারের বৈঠকে
সীমান্তে ‘সিঙ্গেল রো ফেন্স’ বসানো নিয়ে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্য রেখা
থেকে ১৫০ গজের মধ্যে যেকোনো স্থাপনা
তৈরি নিষিদ্ধ। কিন্তু বিএসএফ সেই সুযোগ
চেয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিজের
দিকে ১৫০ গজের মধ্যে এক স্তরের কাঁটাতারের
বেড়া (সিঙ্গেল ফেন্সিং) দেবে বিএসএফ।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের
বেড়া ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে
অবস্থানকারী ভারতীয় জমিতে থাকা মোট ২৫০
গ্রামের বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য এই এক
স্তরের কাঁটাতারের বেড়া লাগাতে ভারত
আগ্রহী। সে জন্য এই বৈঠকে বিজিবির
সহযোগিতা ভারতের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়।
দুদিনের বৈঠক শেষে আলোচিত বিষয়-সম্পর্কিত
নথি সইয়ের পর গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ
সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মা
বলেন, ‘ওই গ্রামবাসীর স্বার্থ রক্ষা এবং
সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে আমরা এই এক স্তরের
কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর সিদ্ধান্ত
নিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার ও বিজিবি এই
কাজের অনুমতি দিয়েছে।’
আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে সাধারণত দেড় শ
গজ দূরে ভারতীয় জমিতে কাঁটাতারের বেড়া
রয়েছে। এই মধ্যবর্তী অংশেই জায়গায় জায়গায়
মোট আড়াই শ গ্রামের অবস্থান। নতুন বেড়া এই
গ্রামগুলো ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে
তোলার কথা। কে কে শর্মা জানান, এই
গ্রামগুলোর অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ এ
প্রসঙ্গে বলেন, ‘বেড়া তোলার কাজের সময়
আমাদের দিক থেকে কেউ যাতে কোনো বাধা
না দেয় সেটা নিশ্চিত করা হবে। বিষয়টি
আমরা মানবিকতার দৃষ্টিতে দেখছি। দুই দেশের
এই সুসম্পর্ক নজিরবিহীন। পৃথিবীর কোথাও এই
দৃষ্টান্ত নেই।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার ৪০৯৬
কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অধিকাংশ
স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে
নয়াদিল্লি। কিন্তু বেশ কিছু এলাকায়, বিশেষ
করে পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে
ঘন জনবসতি থাকায় বেড়া দিতে পারেনি
ভারত। এ জন্য দেশটি দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্তের
শূন্য রেখার কাছে বেড়া দেওয়ার সুযোগ দিতে
বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে
আসছিল।
এদিকে ভারতীয় জঙ্গিদের তৎপরতা কমাতেও
বিজিবির পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছে ভারত।
বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ
আহমেদ পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে
বলেছেন, বাংলাদেশ তার মাটিতে কোনো
ধরনের জঙ্গি কাজকর্ম হতে দেবে না।
উলফা বা ওই জাতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি
সংগঠনের তৎপরতা না থাকলেও মিজোরাম,
মণিপুর, নাগাল্যান্ডের জঙ্গি গোষ্ঠীদের কেউ
কেউ এখনো বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায়
সক্রিয়। তাদের প্রধান কাজ মানুষ অপহরণ করে
মোটা মুক্তিপণ আদায় করা। এই উপদ্রব বন্ধ
করতেই বিজিবির সক্রিয় সমর্থন চায় বিএসএফ।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দুই বাহিনীর প্রধান
জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে
তাদের আলোচনা হয়েছে। একাধিক সমস্যার
সমাধান তাঁরা করতে পেরেছেন। এই বৈঠকে
ঠিক হয়েছে বিজিবির জওয়ানদের জন্য
বিএসএফ কমান্ডো প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত
করবে। দুই বাহিনীর পরবর্তী বৈঠক বসবে
ঢাকায়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন